তিরুবনন্তপুরম, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কেরলের নতুন ভি.ডি. সতীশন সরকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সরকারের আমলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক তদন্ত শুরু করেছে। একের পর এক নতুন তদন্তের ফলে বিজয়ন সরকারের প্রায় এক দশকের শাসনকাল এখন কার্যত সরকারি তদন্তের আওতায় আসছে।
লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কেরল সফর ঘিরে কথিত আর্থিক অনিয়ম এবং কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসি-র পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এবার আলাপ্পুঝায় পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এরই মধ্যে ব্লিচিং পাউডার কেনাকাটায় কথিত অনিয়ম এবং রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ঔষধি’-তে ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক দিন আগে ঘোষিত এই তদন্তগুলির গুরুত্ব শুধু পৃথক অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিভিন্ন দফতর এবং বিজয়ন সরকারের আমলে নেওয়া সিদ্ধান্ত ঘিরে ধারাবাহিকভাবে তদন্ত শুরু হওয়ায় একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।
কেরল মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশনের মাধ্যমে প্রায় ৭.৩২ কোটি টাকার ব্লিচিং পাউডার কেনাকাটায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে ভিজিল্যান্স বিভাগ। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ঔষধিতে প্রায় ২.৪ কোটি টাকার ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করা হবে।
এর আগে থেকেই বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তদন্ত চলছে। ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রস্তাবিত কেরল সফর ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করছে এডিজিপি পি. বিজয়নের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি।
পাশাপাশি পিএসসি-র পরীক্ষা ব্যবস্থায় কথিত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে আরেকটি এসআইটি কাজ করছে। আলাপ্পুঝায় পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও পৃথক একটি তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে।
এছাড়া আলাপ্পুঝা, কোট্টায়াম এবং এরনাকুলাম জেলার বার মালিকদের কাছ থেকে আবগারি দফতরের আধিকারিকরা মাসিক টাকা আদায় করতেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
নতুন এই তদন্তগুলির সঙ্গে ২০১৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মিলও টানা হচ্ছে। সে সময় পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম জোট বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন ওমেন চাণ্ডি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল।
ক্ষমতায় এসে বিজয়ন সরকারের অন্যতম প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল নির্বাচনের আগে শেষ কয়েক মাসে নেওয়া মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা। সেই সিদ্ধান্তগুলিকে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই তদন্ত ও পর্যালোচনা থেকে রাজনৈতিক প্রচারে যে ব্যাপক পরিবর্তন বা প্রশাসনিক হিসাবনিকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
প্রায় এক দশক পর এবার পরিস্থিতি যেন উল্টে গেছে। বিজয়ন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সতীশন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয়ন জমানার বিভিন্ন অভিযোগকে নতুন করে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। একের পর এক এসআইটি ও ভিজিল্যান্স তদন্তের মাধ্যমে সেই সময়কার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই তদন্তগুলির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হবে কি না, তা তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে। রাজনৈতিকভাবে অবশ্য নতুন তদন্তগুলির বার্তা স্পষ্ট। পিনারাই বিজয়নের দীর্ঘ শাসনকালকে ধারাবাহিকভাবে নজরদারির আওতায় রাখতে চাইছে সতীশন সরকার। প্রতিটি নতুন তদন্ত সেই রাজনৈতিক বার্তাকেই আরও জোরালো করছে।



















