News Flash

  • Home
  • দেশ
  • ‘দেশ ছেড়ে নয়, ঘরে থেকেই লড়াই’: বিদেশি নিয়োগ থেকে ‘হোমগ্রোন র‍্যাডিক্যালাইজেশন’-এ কৌশল বদল আইএসের
Image

‘দেশ ছেড়ে নয়, ঘরে থেকেই লড়াই’: বিদেশি নিয়োগ থেকে ‘হোমগ্রোন র‍্যাডিক্যালাইজেশন’-এ কৌশল বদল আইএসের

নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল-কায়েদায় যোগ দিতে দেশ ছেড়ে সিরিয়া, ইরাক কিংবা আফগানিস্তানে যাওয়ার প্রবণতা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এটি একদিকে স্বস্তির বিষয় হলেও, অন্যদিকে অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশনের নতুন প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এক সরকারি আধিকারিকের মতে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতীয় যুবকদের ইসলামিক স্টেট বা আল-কায়েদায় যোগ দিতে দেশ ছাড়ার প্রবণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে এই প্রবণতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশ ছেড়ে যাওয়া বা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা যুবকদের সংখ্যা এখন ব্যাপকভাবে কমে প্রায় শূন্যে এসে দাঁড়িয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রবণতা দক্ষিণ ভারতে সবচেয়ে বেশি ছিল। এর মধ্যে কেরল ও তামিলনাড়ু ছিল অন্যতম প্রধান রাজ্য।

গোয়েন্দা ব্যুরোর এক আধিকারিক জানান, ইসলামিক স্টেটের র‍্যাডিক্যালাইজড সদস্যদের সঙ্গে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কথোপকথনের ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এখন আর দেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে না। বরং ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার হ্যান্ডলার বা রিক্রুটাররা যুবকদের দেশে থেকেই কার্যকলাপ চালানোর জন্য উৎসাহিত করছে।

বিশেষ করে ইসলামিক স্টেট তাদের কার্যপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সদস্যদেরও দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে নিজ নিজ দেশে থেকে র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের মতে, এই কৌশলগত পরিবর্তন অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এক আধিকারিকের দাবি, ইসলামিক স্টেটের লক্ষ্য প্রতিটি দেশে ছোট ছোট ‘ইসলামিক স্টেট’ তৈরি করা। ভারতের ক্ষেত্রেও তারা দেশজুড়ে একক কোনও সংগঠন তৈরির পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক কার্যকলাপের উপর জোর দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।

আরও এক আধিকারিক জানান, এই কৌশলের ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেরল ও তামিলনাড়ুতে অনলাইন যোগাযোগের পরিমাণ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবকদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের হ্যান্ডলাররা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।

এখন শুধু ২০ বা ৩০-এর কোঠার যুবকরাই নয়, স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদেরও টার্গেট করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এটিই নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

কাউন্টার-টেরর বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের টার্গেট করা একটি পরিকল্পিত কৌশল। এই বয়সে মানসিকভাবে প্রভাবিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ। ফলে কৈশোরেই র‍্যাডিক্যালাইজড হলে ২০-এর কোঠায় পৌঁছনোর সময় তারা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র সাম্প্রতিক তদন্তগুলি বিশ্লেষণ করলেও ইসলামিক স্টেটের মূল নজর কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের উপর রয়েছে বলে স্পষ্ট হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রাজ্যগুলিই অতীতে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে দেশ ছেড়ে যাওয়া সদস্যদের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রিক্রুটদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য দেশে থেকেই একটি ‘লিবারেটেড জোন’ বা ‘আল-শাম’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পদঘাকে কেন্দ্র করে এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধানও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। সেখানে সদস্যদের ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ‘বায়াত’ গ্রহণ করানো হয়।

সাম্প্রতিক তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে, ‘বায়াত’ নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুমের মাধ্যমে বিভিন্ন বক্তৃতায় অংশ নেন এবং টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে প্রথমে এই অনলাইন সেশনগুলিকে ধর্মীয় শিক্ষার সাধারণ ক্লাস বলে মনে হলেও বিস্তারিত তদন্তে এগুলির মধ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শ প্রচার এবং ভারতে হিংসাত্মক জিহাদে যুক্ত হওয়ার জন্য সদস্যদের প্রস্তুত করার প্রমাণ মিলেছে বলে আধিকারিকদের দাবি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫৫টি মামলা ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশ দফতরের অনুমান অনুযায়ী, ৬৬ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনই কেরলের বাসিন্দা ছিলেন।

এই ব্যক্তিরা কেরল থেকে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)-এ যোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

আধিকারিকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। তবে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ‘অপারেশন চক্রব্যূহ’-এর মাধ্যমে অনলাইনে বহু যুবকের গতিবিধি নজরে এনে তাঁদের দেশ ছাড়ার আগেই আটকাতে সক্ষম হয়েছিল।

ফলে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবাহ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে নতুন পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এক আধিকারিকের ভাষায়, ইসলামিক স্টেটের কৌশল এখন ‘বাড়ি ছেড়ে যাও’ থেকে বদলে ‘বাড়িতে থেকেই হিংসাত্মক জিহাদ প্রচার’-এর দিকে এগিয়েছে।

—আইএএনএস

Releated Posts

‘অবিলম্বে পদত্যাগ করুন’: প্রিয়াঙ্ক খাড়গের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কুমারস্বামী

বেঙ্গালুরু, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): আইএএস আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্র কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক…

ByByTaniya Chakraborty Aug 28, 2026

তৃণমূলের বিলবোর্ড বিতর্কে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ মমতা-নেতৃত্বাধীন শিবির

কলকাতা, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা বেআইনি বিলবোর্ড…

ByByTaniya Chakraborty Aug 28, 2026

সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৮.৫০ লক্ষ টাকা প্রতারণা, জম্মু-কাশ্মীরে এফআইআর

শ্রীনগর, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাহেলগামে শ্রী অমরনাথজি যাত্রার সময় তাবু বসানোর অনুমতি করিয়ে…

ByByTaniya Chakraborty Aug 28, 2026

তৃণমূলের বিলবোর্ড বিতর্কে ১৩ জন গ্রেপ্তার, অভিষেক-ডেরেকসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর

কলকাতা, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ছাদ থেকে বেআইনি বিলবোর্ড সরানোকে…

ByByTaniya Chakraborty Aug 28, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top