নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): পেঁয়াজের দাম, বাজারে সরবরাহ এবং বিভিন্ন রাজ্যে মজুতের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে বলে সোমবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পেঁয়াজের সম্ভাব্য উৎপাদন ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন (এলএমটি), যা আগের বছরের ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টনের প্রায় সমান। পাশাপাশি বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করার জন্য সরকারি বাফার স্টকও মজুত রয়েছে।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থকে মূল্য স্থিতিশীলকরণ নীতির কেন্দ্রে রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণত পেঁয়াজের দামে কিছুটা বৃদ্ধি ও অস্থিরতা দেখা যায়। উৎসবের মরশুমে বাড়তি চাহিদা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থার ওঠানামা এবং বাজারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যের মতো বিষয় এর অন্যতম কারণ বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের মতে, অফ-সিজনে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মণ্ডিগুলিতে সময়মতো বড় পরিমাণে পেঁয়াজ ছাড়া এবং প্রধান ভোগকেন্দ্রগুলিতে নির্দিষ্টভাবে খুচরো বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগের বছরগুলির কৌশল অনুসরণ করে চলতি বছরও বিভিন্ন রাজ্যের বাজার পরিস্থিতি ও দামের উপর নিয়মিত নজর রেখে বাফার স্টক থেকে ধাপে ধাপে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ভোগকেন্দ্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ ছাড়ার সময়, পরিমাণ এবং গন্তব্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পেঁয়াজ পরিবহণে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মতো উদ্যোগও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করছে। রেলের বিশেষ রেকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১৪টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাঁচটি শহরে পাঠানো হয়েছিল।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হয়। ৮৬টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ৮৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের ১৬টি বড় শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গত বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চলতি বছর নাসিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভোগকেন্দ্রগুলিতে পেঁয়াজ পরিবহণ এবং বাফার স্টক থেকে সরবরাহের প্রক্রিয়া ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, কোচি এবং গুয়াহাটিকে পাঁচটি প্রধান ভোগকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও গন্তব্য যুক্ত করা হবে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম, বাজারে আগমন এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
–আইএএনএস



















