নয়াদিল্লি/শ্রীনগর, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): কাশ্মীর উপত্যকায় প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নতুন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা আরও জোরদার এবং কর্মীদের অতিরিক্ত সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের সংগঠন।
‘অল পিএম প্যাকেজ এমপ্লয়িজ ফোরাম কাশ্মীর’ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি কথিত হুমকি পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, ওই পোস্টারে উপত্যকায় কর্মরত অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের নাম, বাসস্থানের ঠিকানা এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও সেখানে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে পোস্টারটির সত্যতা বা এর পিছনে থাকা সংগঠনের পরিচয় এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখনও পর্যন্ত হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা বা পোস্টারটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে হুমকিদাতাদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে কর্মী ও কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইএএনএস-কে বলেন, “আগস্টের প্রথম সপ্তাহে একটি চিঠি এসেছিল। এবার গতকাল ফের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি খুঁজে বের করুক কীভাবে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের হাতে পৌঁছচ্ছে। আমরা এটাও স্পষ্ট করতে চাই যে আমরাও কাশ্মীরি এবং কাশ্মীরে আমাদের সমান অধিকার রয়েছে। একদিন আমরা ফিরে যাব।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০-এর দশকের হিংসা ও বাস্তুচ্যুতির স্মৃতি এখনও পরিবারের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কথায়, নতুন করে এমন হুমকির ঘটনা প্রবীণদের জন্য বিশেষভাবে বেদনাদায়ক।
কুলগামেও সংখ্যালঘু কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অল মাইনরিটি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন কাশ্মীরের সভাপতি সঞ্জয় কৌল। তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে, এমনকী কেউ কেউ ২০০৭-০৯ সাল থেকে উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, কথিত হুমকিতে জম্মুর কর্মীদের নাম, ঠিকানা এবং গাড়ির নম্বর উল্লেখ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
কৌল বলেন, “সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় গাড়ির নম্বর। সংশ্লিষ্ট দফতর, বিশেষ করে পরিবহণ দফতরকে বিষয়টি নিয়ে আত্মসমীক্ষা করতে হবে। কীভাবে এই তথ্য পাওয়া গেল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।”
মুম্বইয়ে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের এক সদস্যও উপত্যকায় কর্মরত কর্মীদের কথিতভাবে টার্গেট করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আবেদন, অতীতের মতো ফের যাতে হিন্দুদের বেছে বেছে টার্গেট করা না হয়, তার জন্য সরকারকে আগাম উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য কথিতভাবে হুমকিদাতাদের হাতে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে কর্মীদের সংগঠন।
–আইএএনএস



















