নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভারত’-এর লক্ষ্যে ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ৫১ জন কুখ্যাত অপরাধীকে বিদেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে বলে জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পলাতক তিন ভারতীয় গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করে ভারতে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে ডেভিন্দর বামবিহা গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে ভারতে ফেরাতে সক্ষম হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, ভারতীয় সংস্থাগুলি মালয়েশিয়ায় পলাতক তিন ভারতীয় গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করিয়ে ভারতে প্রত্যর্পণ করেছে এবং তাঁদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফেরানো তিন অভিযুক্ত হলেন জসপ্রিত সিং, অজয় সিং এবং পাওনদীপ সিং। তাঁরা বামবিহা গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সীমান্তপারের অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং লুধিয়ানায় একটি ব্যর্থ গ্রেনেড হামলার মতো একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভারতের ভাবনার অধীনে আমাদের সংস্থাগুলি ২০২৬ সালেই ৫১ জন কুখ্যাত অপরাধীর প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করেছে।”
এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে থেকে ভারতীয় আইনের হাত এড়িয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
কেন্দ্রের দাবি, শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের সরকারগুলির পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। মোদি সরকার প্রত্যর্পণকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’-এ পরিণত করেছে। অমিত শাহের মতে, পলাতক অপরাধীদের বিষয়টি দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কৌশল তিনটি মূল স্তম্ভের উপর গড়ে উঠেছে—আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংস্থাগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স অ্যাক্ট, ২০১৯ সালে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) অ্যাক্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর সংশোধন এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারার মাধ্যমে অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতপোল চালু করা হয়। এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১,৪০০-রও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ইন্টারপোলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।______



















