সোনামুড়া, ২০ আগস্ট: অকালে প্রয়াণ হল সোনামুড়ার তরুণ আইনজীবী পলাশ কান্তি বর্মনের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। বুধবার গভীর রাতে আগরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর অকাল প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোনামুড়া মহকুমাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পিত্তনালীর সংযোগস্থলে একটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল পলাশ কান্তি বর্মনের। দুদিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শরীরে তীব্র বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাঁকে আগরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
২০০০ সালের গোড়ার দিকে সোনামুড়া বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন পলাশ কান্তি বর্মন। অল্প সময়ের মধ্যেই সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক শহর সোনামুড়ায় সাধারণ মানুষকে আইনি পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে দ্রুতই নিজের পরিচিতি তৈরি করেন পলাশ। তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার জন্যও তিনি সকলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
পলাশ কান্তি বর্মন ছিলেন সোনামুড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি বর্মনের ছেলে। আইনজীবী পেশাকেই তিনি নিজের জীবনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সোনামুড়ার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। দুপুরে আগরতলা থেকে তাঁর মরদেহ সোনামুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সোনামুড়া বার অ্যাসোসিয়েশনে। সেখানে আইনজীবী ও আদালতের সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এরপর মরদেহ সোনামুড়া সিপিআইএম দলীয় ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তীসহ দলীয় নেতৃত্বরা পলাশ কান্তি বর্মনের মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ব্লাড ড্রপস ক্লাবে। সেখানে বিজেপির দক্ষিণ জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথসহ মণ্ডল নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রোশন আলীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ তরুণ আইনজীবী পলাশ কান্তি বর্মনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং নবম শ্রেণিতে পাঠরত এক ছেলে রেখে গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী আইনজীবী এবং সোনামুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।


















