নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের ‘মহাসাগর’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ উদ্যোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে গভীর কৌশলগত আন্তঃসম্পর্কের ওপরও জোর দেন তিনি।
নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, দুই মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রমশ নানা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা এবং আইনসম্মত বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়, বরং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনাথ বলেন, “ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তা গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই ভারতের ‘মহাসাগর’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাপানের ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতের মহাসাগর-এর পূর্ণরূপ ‘অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক ও সামগ্রিক অগ্রগতি’। এর লক্ষ্য বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক এবং সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
রাজনাথ সিং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে ভারতে স্বাগত জানান। জাপানের প্রতিনিধিদল বুধবার মুম্বইয়ে পৌঁছয় এবং সেখানে পশ্চিম নৌ কমান্ডের সঙ্গে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
কুমামোতো অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জাপানের প্রতি ভারতের সংহতি প্রকাশ করে রাজনাথ বলেন, “কুমামোতো অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় ভারত সরকার ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানাই। প্রাণহানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। একইসঙ্গে জাপানের অসাধারণ সহনশীলতা, দ্রুত জরুরি সাড়া এবং প্রস্তুতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
কঠিন সময়ে জাপানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে প্রয়োজন হলে যে কোনও ধরনের সহায়তা, ত্রাণ বা সমর্থন দিতে ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।
রাজনাথ বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্ক অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আগামী বছর দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে ভারত-জাপান বন্ধুত্ব শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এশিয়ার দুই প্রধান গণতন্ত্র হিসেবে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনাথ সিং সামাজিক মাধ্যমে বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিকের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং কৌশলগত আস্থা বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
_______



















