নয়াদিল্লি, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে একাধিক জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষা বাতিলের পর তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি। রাজ্য সরকারের বাতিলের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না বলে দাবি করে তিনি ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সিআইডি-এর তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনামুখর মারান্ডি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিজেপি নেতা জেপিএসসি পরিচালিত ১১তম থেকে ১৩তম সম্মিলিত সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা নিয়ে কথিত অনিয়ম, ইন্টারভিউ বোর্ড প্রভাবিত করার অভিযোগ এবং তদন্তে যুক্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মারান্ডির দাবি, টিডিপিএল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রামবীর সিং এবং অভয় তিওয়ারি তাঁদের বয়ানে ১১তম থেকে ১৩তম জেপিএসসি পরীক্ষার ইন্টারভিউ বোর্ড ‘ফিক্স’ করার কথা স্বীকার করেছেন।
বিজেপি নেতার দাবি, রামবীর সিং অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা প্রার্থীদের পরিচয়সংক্রান্ত কোড ডিকোড করে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের নিজেদের ইন্টারভিউ বোর্ডে ডাকতেন।
ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় এমন কারচুপি হয়ে থাকলে ওই সময় বিভিন্ন ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা সমস্ত আধিকারিকের ভূমিকা কেন তদন্ত করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন মারান্ডি। তাঁর দাবি, সিআইডি-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মনোজ কৌশিক-সহ বেশ কয়েকজন আইপিএস আধিকারিকও ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
তাঁর প্রশ্ন, তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সংস্থার আধিকারিকরাই যদি ওই প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিআইডি কীভাবে এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে?
মারান্ডি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
বিজেপি নেতা বলেন, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকের বয়ান নেওয়া উচিত এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা দরকার। এর মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মারান্ডি আরও উল্লেখ করেন, রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি তদন্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে এবং এই মামলায় জেপিএসসি চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন।



















