আগরতলা, ১৯ আগস্ট: কারাবন্দি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি সারথি সরকারকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর না করার বিষয়টি নিয়ে চলা প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিল ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন। আগরতলার এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে কমিশনের সামনে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।
গত ৮ জুলাইয়ের আদেশে মানবাধিকার কমিশন সারথি সরকারকে এসএসকেএম হাসপাতাল অথবা একই ধরনের চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন অন্য কোনও হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি চিকিৎসায় গাফিলতি ও বিলম্বের অভিযোগে তাঁকে ১.৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।
কমিশনের সামনে হাজির হয়ে আইজি (প্রিজন) উপেন্দ্র জমাতিয়া জানান, পরবর্তীকালে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে দুই হাঁটুর এসিএল-এর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুবিধা তৈরি হওয়ায় সারথি সরকারকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়নি। গত ২০ জুন তাঁর এসিএস অস্ত্রোপচার হয় এবং ২৫ জুন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর তিনি অর্থোপেডিক ওপিডিতে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য যান এবং সেলাই কাটানো হয়। ২৭ জুলাইও তাঁকে পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন এবং তাঁর হাঁটুতে সামান্য ব্যথা রয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন পর্যবেক্ষণে জানায়, মূল সুপারিশ জারির সময় এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ছিল না। পরবর্তীকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি করে এবং সেখানেই সারথি সরকারের সফল চিকিৎসা হয়। তবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আগে কারা কর্তৃপক্ষ কমিশনকে বিষয়টি জানায়নি, যা একটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।
বর্তমানে সারথি সরকারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনও অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁর চিকিৎসা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়ায়, মানবাধিকার সুরক্ষা আইন, ১৯৯৩-এর ১৮(সি) ধারার অধীনে এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
তবে ১.৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি। আইজি (প্রিজন) জানান, স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আপাতত কোনও বিরূপ নির্দেশ জারি করেনি কমিশন। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হয়েছে কি না, তার ওপর একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এক মাস পর মামলাটি ফের তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন।
























