কলকাতা, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে ২০ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করে চারজনকে গ্রেফতার করেছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কাছে এনএইচ-৩২৭-এর পিডব্লিউডি মোড়ে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পায় এসএসবি। এলাকাটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে।
এসএসবি-র এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৪১ ব্যাটালিয়ন এসএসবি-র কাদোমানিজোটের ‘ই’ কোম্পানির বিশেষ নাকা দল অভিযান চালায়। সেই সময় তিনজন পুরুষ ও এক মহিলাকে আটক করে তাঁদের লাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ২০.১৭৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়।
গ্রেফতার হওয়া চারজনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের নাম সাবেরুল (৬২), বাসির শেখ (৪৭), প্রশান্ত বিশ্বাস (৩০) এবং মঞ্জু মহন্ত (৪৪)। প্রথম দু’জন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের বাসিন্দা। প্রশান্ত বিশ্বাস কোচবিহারের এবং মঞ্জু মহন্ত দার্জিলিং জেলার খড়িবাড়ির বাসিন্দা।
অধিকারিকদের দাবি, চারজনই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের সদস্য। প্রাথমিক জেরায় তাঁরা জানান, কোচবিহার থেকে ইসলামপুরের ভালুগাড়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কোচবিহারের শিবচরণ বিশ্বাসের কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল বলেও তাঁরা জানান।
এসএসবি চারজনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। ফোনের কল রেকর্ড ও মেসেজ খতিয়ে দেখে চক্রের অন্য সদস্যদের সন্ধান চালানো হবে। উদ্ধার হওয়া গাঁজা, মোবাইল ফোন এবং ধৃত চারজনকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা করা হবে।
ভারত-নেপাল সীমান্তে মাদক পাচার দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সঙ্গে যুক্ত এই রুট ব্যবহার করে মাদক পাচারের পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়েও মাদক চোরাচালানের চেষ্টা হয়। ভারত ও নেপালের মধ্যে খোলা সীমান্ত ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই সীমান্ত পারাপারের সুযোগ রয়েছে। ফলে মাদক ও অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে এসএসবি।
এসএসবি-র ওই আধিকারিক আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের অপরাধীরাও এই এলাকাকে ব্যবহার করে দুই রাজ্যের মধ্যে নিষিদ্ধ সামগ্রী পরিবহণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় সড়কটিতেও এসএসবিকে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হয়।
এছাড়া বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে অসমে অবৈধভাবে গবাদি পশু পাচারের চেষ্টাও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে উদ্বেগের বিষয়। অসম থেকে ওই গবাদি পশু মেঘালয়ে নিয়ে যাওয়া বা বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টাও হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন আধিকারিক।
_______



















