পটনা, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি, বেকারত্ব, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সিওয়ানে একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর বিতর্ককে সামনে রেখে রাজভবন অভিযানে নামা রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বুধবার পটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ মিছিল আটকাতে পটনা পুলিশ আগে থেকেই জেপি গোলাম্বর থেকে ডাকবাংলো চৌমাথা পর্যন্ত রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরানোর বা তা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আরজেডি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। অন্যদিকে, ত্রিবর্ণ পতাকা ও ছাত্রদের সমর্থনে পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিহার সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
ইনকাম ট্যাক্স গোলাম্বর এলাকায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবকে আটক করে পুলিশ। পরে আরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বক্সারের আরজেডি সাংসদ সুধাকর সিংকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আরজেডি কর্মীরা পটনায় এসে এই বিক্ষোভে অংশ নেন। সিওয়ানে গুলি চালানোর বিতর্কের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কয়েকজন বিক্ষোভকারী খেলনা একে-৪৭ রাইফেলের প্রতিরূপও বহন করেন। ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথিত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে বিভিন্ন পোস্টারও দেখা যায়।
আরজেডির রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, বেকারত্ব এবং বারবার পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্কের জেরে ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই বিক্ষোভ তারই প্রতিফলন। দলটি কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যাও তুলে ধরে।
রাজভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে পটনা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। মিছিলের পথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পটনার ইনস্পেক্টর জেনারেল জিতেন্দ্র রানা-সহ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের অনুমতি ছাড়া বলপ্রয়োগ না করার জন্য পুলিশকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই রাজভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে আরজেডি ও বিহার সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তেজস্বী যাদবের অভিযোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করছে রাজ্য প্রশাসন।



















