আগরতলা, ১৮ আগস্ট: ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ভাষণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্পের সংকট, বিদেশি ঋণের বোঝা, বিনিয়োগ প্রত্যাহার, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রত্যাশিত গুরুত্ব ছিল না।
প্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ৩৫ বছরের নিচে। ফলে তরুণ সমাজের শিক্ষা, যোগ্যতা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট দিশা প্রত্যাশিত ছিল। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী ঘটনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।
দলের অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন এবং ‘দিমাগি নকশাল’-কে দেশের প্রধান বিপদ হিসেবে তুলে ধরেছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কাগজ ফাঁস, চাকরিতে দুর্নীতি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত ছিল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, আরএসএস, বিজেপি এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরের নেতারা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভাজন তৈরি, ইতিহাস ও বিজ্ঞান বিকৃত করা এবং ভয় ও প্রলোভনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছেন। দলের দাবি, গত ১২ বছর ধরে সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধী নেতাদের বিভিন্ন তকমা দেওয়া হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবসের মতো ঐতিহাসিক দিনে শিক্ষিত গণতান্ত্রিক মানুষ, গবেষক, বিজ্ঞানী এবং দেশের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নির্মাণে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে হুমকিসূচক ভাষা ব্যবহার প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ছাত্র আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করারও সমালোচনা করেছে দলটি।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রকর্মীর বাড়িতে হামলা এবং তাঁর বাবাকে হত্যার ঘটনাও বিবৃতিতে তুলে ধরেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো—দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্ত্রী, বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে সোচ্চার হওয়া। দলটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে এবং রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
———
























