নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): আমেরিকায় বাধ্যতামূলক ভোটার পরিচয়পত্র চালুর পক্ষে সওয়াল করতে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্যকে মঙ্গলবার স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলটির নেতারা এটিকে ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য ‘গর্বের মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয় সমাজবাদী পার্টি (এসপি)।
বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল আইএএনএস-কে বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য প্রমাণ করে যে ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে। তাঁর দাবি, যারা বারবার নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রশংসা তাঁদের জন্য ‘জোরালো জবাব’।
বিজেপি মুখপাত্র আরপি সিং বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা গোটা বিশ্বে সম্মানিত। তাঁর মতে, ভারত ও আমেরিকা একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তিনি বলেন, ভারতে যেভাবে ভোটার পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমেরিকাতেও চালুর কথা বলছেন ট্রাম্প।
বিহারের মন্ত্রী রামকৃপাল যাদবও ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানান। তিনি ভারতীয় গণতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন, বিহারের মানুষ এবং দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমেরিকায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ভারতকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা ‘বড় বিষয়’।
তাঁর দাবি, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা গোটা বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে এবং আমেরিকার পক্ষ থেকে তার প্রশংসা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং নির্বাচন কমিশন দেশের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দিকে কাজ করেছে।
তবে বিজেপির এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে সমাজবাদী পার্টি। দলের মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা দাবি করেন, ট্রাম্প সরাসরি ওই কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারই মার্কিন প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে এত বড় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বর্মা বলেন, গণতন্ত্রে একতরফা যোগাযোগ হওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, আমেরিকায় গণতন্ত্র এখনও সক্রিয় এবং নির্বাচনে পরাজয়ের পরও রাজনৈতিক নেতারা আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তিনি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটদানের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এসপি সাংসদ অবধেশ প্রসাদ ট্রাম্পের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শ ভারতের জন্য বিপজ্জনক এবং তাঁর নীতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও কৃষকদের স্বার্থের ওপর পড়েছে। তাঁর মতে, ট্রাম্প ধারাবাহিক বা পূর্বানুমানযোগ্য নেতা নন এবং তিনি পরবর্তী সময়ে কী অবস্থান নেবেন, তা বলা কঠিন। তাই ভারতের স্বার্থে তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নাগরিকত্বের শর্ত চালুর দাবিতে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ‘সেভ আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তিনি ভারতের উদাহরণ ব্যবহার করেন।
নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ফটো পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হয়।
ট্রাম্পের সমর্থিত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট-এ ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, দেশজুড়ে ভোটার পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা চালু করা এবং ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ কঠোরভাবে সীমিত করার মতো প্রস্তাব রয়েছে।



















