আইজল, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): মিজোরামের সাইতুয়াল জেলায় পৃথক দুটি যৌথ অভিযানে প্রায় ১২.০৯ কোটি টাকা মূল্যের হেরোইন উদ্ধার করল অসম রাইফেলস ও মিজোরাম পুলিশ। এই ঘটনায় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাইতুয়াল জেলার এনগোপা এলাকায় মিজোরাম পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় অসম রাইফেলস। অভিযানে একটি মাদক পাচারকারীকে আটক করে যৌথ বাহিনী। তার কাছ থেকে ১০৯টি সাবান কেসে লুকিয়ে রাখা মোট ১.১৮০ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮.৮৫ কোটি টাকা।
জানা গিয়েছে, গাড়িটির পিছনের নম্বর প্লেটের ঠিক পিছনে বিশেষভাবে তৈরি একটি চেম্বারের মধ্যে মাদকগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। মাদক বহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে যৌথ বাহিনী।
অন্য একটি অভিযানে একই এনগোপা এলাকায় একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪০টি সাবান কেসে লুকিয়ে রাখা ৪৩২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এই মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩.২৪ কোটি টাকা। অভিযানে একটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি দেবেন্দ্র সিং নামে ৫৭ বছর বয়সি এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলার বাসিন্দা।
দুটি ঘটনাতেই উদ্ধার হওয়া মাদক, বাজেয়াপ্ত করা দুটি গাড়ি এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য মিজোরাম পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৮৫ সালের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনে মামলা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী ও মিজোরাম পুলিশের এই অভিযান রাজ্যের মধ্য দিয়ে মাদক পাচার রুখতে চলমান তৎপরতারই অংশ। প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে মাদক প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে মিজোরামকে ব্যবহার করা হয়।
সাইতুয়াল জেলা মিজোরামের উত্তরাংশে অবস্থিত। পাহাড়ি এই জেলার সঙ্গে মণিপুর এবং মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ এবং বেশিরভাগ অংশে বেড়াবিহীন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কারণে মিজোরাম উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাদক পাচার করিডর হয়ে উঠেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের ৫১০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার বেড়াবিহীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
মিয়ানমারের চিন প্রদেশকে মিজোরামে বিভিন্ন ধরনের মাদক, বন্যপ্রাণী এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাইতুয়াল, চাম্ফাই, সিয়াহা, লংটলাই, হ্নাহতিয়াল এবং সেরছিপ—এই ছয়টি জেলার মাধ্যমে পাচারকারীরা মিজোরামে ঢোকার চেষ্টা করে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে অসম রাইফেলস ও মিজোরাম পুলিশ। মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রীর পাচার বন্ধ করার পাশাপাশি সক্রিয় পাচারচক্রগুলিকে ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।


















