রাঁচি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড সরকার রাজ্যে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) এবং টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সব পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তবে তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলন এখানেই শেষ হচ্ছে না। এবার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়ম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে একটি কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলনের ‘দ্বিতীয় ধাপ’ শুরু হবে।
মঙ্গলবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহাতো বলেন, তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা বাতিল করানো নয়। বরং ঝাড়খণ্ডের গোটা নিয়োগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং দুর্নীতিমুক্ত করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, “গতকাল যে সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, সেটিও ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রশ্নফাঁসের কারণে বাতিল হয়েছিল। পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সময়ও প্রশ্নফাঁস হয় এবং ফের পরীক্ষা বাতিল করতে হয়। এখন যে ১৪টি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর প্রশ্নফাঁস হবে না—তার নিশ্চয়তা কী?”
মাহাতোর দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় আন্দোলনের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে। এর জন্য তিনি সরকার, ছাত্রছাত্রী এবং আন্দোলনের সমস্ত সমর্থককে ধন্যবাদ জানান।
তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত বিভিন্ন সংস্থা করে আসছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা যথাযথ বিচার পাননি।
ছাত্রনেতা বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও ধরনের প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্র তৈরিতে অনিয়ম বা পরীক্ষায় কারচুপি না হয়, তার জন্য সরকারকে একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোরতম শাস্তির বিধান চেয়ে রাজ্য বিধানসভায় আইন পাশের দাবি জানান।
মাহাতোর কথায়, “আমরা চাই এমন নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে কোনও ধরনের প্রশ্নফাঁসের সুযোগ থাকবে না। ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্র তৈরিতে অনিয়ম বা পরীক্ষায় কোনও ধরনের কারচুপি যাতে না হয়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এই ধরনের কাজে জড়িত থাকবে, তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে—এই নিশ্চয়তাও চাই। এ বিষয়ে রাজ্য বিধানসভায় একটি আইন পাশ করতে হবে। প্রয়োজনে এই লক্ষ্য পূরণে সংবিধানও সংশোধন করা যেতে পারে। এটাই আমাদের লড়াইয়ের দ্বিতীয় ধাপ।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আইন কার্যকর হলে শুধু বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরাই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার সুফল পাবে।
এর আগে অনশন প্রত্যাহারের পর মাহাতো জানিয়েছিলেন, ১৬ দিনের অনশন তাঁরা মর্যাদার সঙ্গে শেষ করেছেন। ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি, মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে এবং বিধায়ক জয়রাম মাহাতোর যৌথ উদ্যোগে অনশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা যে দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন, সেগুলি পূরণ হয়েছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে জেএসএসসি-সিজিএল এবং টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের এই ঘোষণার পর জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, মিষ্টি বিতরণ করেন, স্লোগান দেন এবং রং ও আতশবাজির মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন। টানা ২৪ দিনের আন্দোলনের পর জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে তাঁরা বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেন।



















