নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘রূপান্তরমূলক ভূমিকা’র প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার। তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূমিকা স্পষ্ট।
মঙ্গলবার আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আজার বলেন, ভারতে বসবাস করলে এবং দেশের উন্নয়নের পরিসংখ্যান দেখলেই মোদির নেতৃত্বের প্রভাব বোঝা যায়। তাঁর কথায়, ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ, বিভিন্ন সংস্কার এবং বিশ্বের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সংযোগ—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন দৃশ্যমান।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী মোদির জেরুসালেমে ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নেসেটে ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম ভাষণ। আজারের দাবি, ইসরায়েলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শ্রদ্ধা করেন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তিনি একইভাবে জনপ্রিয়।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সোমবার শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ইরানের কৌশলের সমালোচনা করেন আজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে চাইলেও তাঁর প্রত্যাশিত শর্ত মেনে নিতে চাইছে না। একই সময়ে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচলের জন্য নতুন পথের মানচিত্র নিয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে।
আজার বলেন, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা। তাঁর মতে, এই কৌশল ইরানের জন্য খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন তৈরির উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ নিয়েছে।
তিনি ইরাক থেকে তুরস্ক ও সিরিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত প্রস্তাবিত পাইপলাইন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ইরাক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পর্যন্ত পরিকল্পিত পাইপলাইনের কথা উল্লেখ করেন। আজারের মতে, হরমুজকে কেন্দ্র করে ইরানের এই চাপ সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে না।
সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত। চুক্তিটি আদতে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে হলেও, কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে ইসলামাবাদ এটিকে ইসরায়েল ও ভারতের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ মুসলিম ফ্রন্ট তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
তবে আজার বলেন, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। তুরস্ক ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বর্তমানে এই চুক্তির পিছনে মূল কারণ ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং সৌদি আরবের ওপর ইরানের একতরফা হামলা।
চুক্তিটিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়েও সতর্ক করে আজার বলেন, গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও জোট তৈরি হলেও সেগুলির কোনওটিই এখনও ন্যাটোর সমতুল্য পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তাই এই চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব বুঝতে আরও সময় লাগবে।
ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা প্রসঙ্গে আজার বলেন, সামরিকভাবে পাকিস্তান জড়িত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে কূটনৈতিক ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই প্রচেষ্টাও এখনও খুব একটা সফল হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে লঙ্ঘিত হয়েছে এবং ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই চুক্তির বিরোধিতা করে প্রণালীতে জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ফলে পাকিস্তান কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।



















