আগরতলা, ১৮ আগস্ট: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে থানার অভ্যন্তরেই এক মহিলাকে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি কাঞ্চনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্রীকান্ত রুদ্র পালের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারিণী সুমা দেবনাথ, স্বামী মহানন্দ দেবনাথ, উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর থানাধীন রাধামাধবপুর বড়হালদি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, একটি বিষয় নিয়ে থানায় গেলে কর্তব্যরত ওসি তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন আচরণ করেন। অভিযোগ, ওই সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি যৌন হয়রানিমূলক আচরণও করা হয়।
অভিযোগকারিণীর দাবি, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ আধিকারিকের কাছ থেকে এমন আচরণে তিনি চরমভাবে অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি থানার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযোগকারিণী।
জানা গেছে, তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে মহিলা কমিশন, পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি), কাঞ্চনপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাইয়ের কাছে জানিয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তেরও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগটি থানার অভ্যন্তরে ঘটেছে বলে দাবি করা হওয়ায় তদন্তে থানার সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কাঞ্চনপুর থানার ওসি শ্রীকান্ত রুদ্র পাল কিংবা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও সমীচীন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই গুরুতর অভিযোগের পর প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এবং অভিযোগকারিণী ন্যায়বিচার পান কি না।



















