কলকাতা, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ইনফরমেশন সিস্টেমস (ডিজিআইএস)-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হর্ষ ছিব্বর বুধবার কলকাতায় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, বৈঠকে ডিজিটাল সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কার্যকরী সক্ষমতা উন্নত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিজিআইএস প্রধান কমান্ডের আধিকারিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সেনাবাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেন তিনি।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল) এবং বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য বিপুল পরিমাণ যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা।
এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও সংক্ষিপ্তসার তৈরি, ভয়েস-টু-টেক্সট পরিষেবা, এআই চ্যাটবক্স, মুখ শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন ও হুমকি শনাক্তকরণে এগুলি ব্যবহার করা হবে।
বিমান, উপগ্রহ, ড্রোন এবং স্থলভিত্তিক সেন্সর নেটওয়ার্ক থেকে আসা তথ্যও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স, নজরদারি, লজিস্টিকস, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স, সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তা, শত্রুপক্ষের সরঞ্জাম বিশ্লেষণ এবং যুদ্ধ মহড়ার সিমুলেশনে সুবিধা মিলবে।
এছাড়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের লক্ষ্য নির্ধারণ, যন্ত্রপাতির পূর্বাভাসভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং জিপিএস-সংকেতহীন পরিবেশে নেভিগেশন আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। হুমকি শনাক্তকরণ ও সামরিক পরিকল্পনাতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর জন্য কেনা সমস্ত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক সক্ষমতাকে প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের অংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরনো কিছু ব্যবস্থায় নির্বাচিত এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কমান্ডের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এবার স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আরও বাড়াতে ভারতীয় সেনাবাহিনীও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, ভবিষ্যতের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনাদের কাছেও এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। সেই কারণে সহজে ব্যবহারযোগ্য উচ্চপ্রযুক্তির ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
—আইএএনএস


















