নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিদেশি নাগরিকদের সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সম্ভাব্য সামরিক বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কার্যকলাপের একাধিক ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং বিদেশি নাগরিকদের যাচাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক ঘটনায়, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং নিজেকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য বলে দাবি করা জর্ডন ব্রাউনকে চলতি মাসে উত্তরপ্রদেশের সোনৌলি সীমান্তে নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ভ্রমণ নথি ছাড়াই আটক করে সীমা সুরক্ষা বল (এসএসবি)। তাঁর কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন-সহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। যদিও নিজের পরিচয়ের দাবির পক্ষে তিনি কোনও নথি দেখাতে পারেননি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এর আগে মার্চ মাসে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে কলকাতা, দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, ভ্যানডাইক সামরিক প্রশিক্ষণদাতা হিসেবে পরিচিত এবং তিনি ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে থাকে।
তদন্তে অভিযোগ, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভারতকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে মায়ানমারের বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে ড্রোন পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ড্রোন প্রশিক্ষণের ছবি ও ভিডিওও মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
এদিকে, গত বছরের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ১ম স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ড (এয়ারবোর্ন)-এর কর্মরত অফিসার টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশি সাপ্তাহিক উইকলি ব্লিটজ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রথমে তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে তাঁর দেহ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র মার্কিন দূতাবাসের আধিকারিকদের হেফাজতে নেওয়া এবং বাংলাদেশে তাঁর কর্মকাণ্ড ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, জ্যাকসন নিয়মিত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও লালমনিরহাট সফর করতেন, যা সীমান্তপথে পাচার ও জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাগুলির মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র এখনও প্রমাণিত না হলেও, এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সন্দেহজনক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের উপর আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁদের মত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে একটি সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার অভিযোগ করেছিলেন যে, হামাস-ঘনিষ্ঠ কার্যকলাপ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও উগ্রপন্থী প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
–আইএএনএস



















