নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): দেওঘর চারা কেলেঙ্কারি মামলায় আরজেডি প্রধান তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের সাজা স্থগিত রাখার ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সিবিআইয়ের দায়ের করা জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানায়, হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর সাত বছর কেটে গিয়েছে, তাই এখন সেই আদেশে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ নেই।
বিচারপতি এম.এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি.বি. ভারালের বেঞ্চ একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টকে লালু প্রসাদের বিচারাধীন ফৌজদারি আপিলের শুনানি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, সম্ভব হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করা হোক।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, “আমরা সংশ্লিষ্ট আদেশে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নই। আপিলটি ২০১৮ সালের। তাই হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শুনানি শেষ করার অনুরোধ জানানোই উপযুক্ত হবে।”
সিবিআইয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু যুক্তি দেন, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল যে লালু প্রসাদ তাঁর মোট সাজাভোগের ৫০ শতাংশ সম্পন্ন করেছেন। সেই ভুল ধারণার ভিত্তিতেই তাঁর সাজা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে সাজা স্থগিতের আবেদনগুলি খারিজ হলেও হাইকোর্ট পরে সাজাগুলিকে একসঙ্গে বিবেচনা করে ভুলভাবে স্বস্তি দিয়েছে।
অন্যদিকে, লালু প্রসাদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সিবিআইয়ের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এক অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে বিচারাধীন আপিলগুলির অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চায়। সিবিআই বিলম্বের জন্য অভিযুক্তদের দায়ী করলেও, শীর্ষ আদালত উল্লেখ করে যে আপিলগুলি ২০১৮ সাল থেকে বিচারাধীন রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সাজা স্থগিতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে আদালত রাজি নয়।
এছাড়াও, লালু প্রসাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল এবং সিবিআইয়ের দায়ের করা সাজা বৃদ্ধির আবেদন—দুটিরই দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে অবিভক্ত বিহারের পশুপালন দফতর থেকে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা ভুয়োভাবে তোলার অভিযোগে চারা কেলেঙ্কারি মামলা দায়ের হয়। সেই সময় লালু প্রসাদ যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং পশুপালন দফতরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই ছিল। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের অন্তর্গত দেওঘর, দুমকা এবং চাইবাসা ট্রেজারি থেকে অর্থ তছরুপের একাধিক মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
_______



















