আগরতলা, ১৪ জুলাই: আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পবিত্র রথযাত্রা উৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে আগরতলার শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিও মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার রথ নতুন সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণে পাঁচ দিনব্যাপী ধর্মসভা, মেলা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্দিরের মহারাজ জানান, প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনেই এ বছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্তরা ধর্মসভায় অংশ নিতে আগরতলায় আসবেন। ভক্তদের জন্য বিশেষ প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, রথযাত্রা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব। এদিন ভগবান জগন্নাথ, তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলভদ্র এবং ভগিনী সুভদ্রা শ্রীমন্দির থেকে রথে আরোহন করে গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ভক্তদের কাছে এই গুন্ডিচা মন্দির ‘মাসির বাড়ি’ নামে পরিচিত। প্রতিবছর একবার তিন দেবদেবী সেখানে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করেন এবং ভক্তদের দর্শন দেন। রথযাত্রার দিন অসংখ্য ভক্ত রথের দড়ি টেনে দেবদেবীদের গুন্ডিচা মন্দিরে পৌঁছে দেন। এই রথ টানাকে অত্যন্ত পুণ্যজনক বলে মনে করা হয়।
তিনি আরও জানান, বাহুড়া যাত্রা বা উল্টো রথের দিন তিন দেবদেবী পুনরায় শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন। ফেরার পথে অর্ধশোষিণী বা মাসি মা মন্দিরে ভগবান জগন্নাথের প্রিয় পোড়া পিঠা নিবেদন করা হয়। শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তনের পর সোনাবেশ, অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজে-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার পালিত হয়।
মহারাজের কথায়, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, সমতা, মানবতা এবং সর্বজনীন সম্প্রীতির প্রতীক। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসবে সকল মানুষের অংশগ্রহণ ভগবানের প্রতি বিশ্বাস ও ঐক্যের বার্তা বহন করে।



















