নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও জাপান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রথম যৌথ উন্নয়ন (কো-ডেভেলপমেন্ট) প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আজ ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, “আমার ছোট বোন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে প্রথম ভারত সফরে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, একজন দূরদর্শী এবং জনপ্রিয় নেতা। তাঁর এই সফরের মাধ্যমে ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।”
তিনি বলেন, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তি এবং ভারতের সফটওয়্যার দক্ষতার সমন্বয় বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে নতুন গতি ও শক্তি যোগাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ ভারত ও জাপান বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম। একটি স্বাধীন, সমৃদ্ধ এবং নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলা আমাদের যৌথ অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য পূরণে আমরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছি, যা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি আরও মজবুত করবে।”
মোদি বলেন, গত কয়েক দশকে অটোমোবাইল থেকে ইলেকট্রনিক্স—ভারতের উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ভারত ও জাপান একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং উন্নত উপকরণের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ-এর আওতায় দেশে ১,০০০টি বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ‘গোবরধন’ প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক জীবিকায় নতুন গতি আনবে।























