নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাটের তিনটি শূন্য বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে এবং ৩ আগস্ট ভোটগণনা করা হবে। সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ৪ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে।
যে তিনটি আসনে উপনির্বাচন হবে, সেগুলি হল বিহারের বাঁকিপুর, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এবং গুজরাটের মাঞ্জলপুর।
বিহারের বাঁকিপুর আসনটি নীতিন নবীনের পদত্যাগের ফলে, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনটি রাজেন্দ্র ভারতীর অযোগ্য ঘোষণার কারণে এবং গুজরাটের মাঞ্জলপুর আসনটি যোগেশভাই প্যাটেলের মৃত্যুর পর শূন্য হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ৬ জুলাই গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৪ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই হবে এবং ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ এবং ৩ আগস্ট ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশন জানিয়েছে, তিনটি কেন্দ্রের ভোটার তালিকা বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাঁকিপুরের ভোটার তালিকা ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, দাতিয়ার ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এবং মাঞ্জলপুরের ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। তবে মনোনয়ন জমার শেষ দিন পর্যন্ত নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলবে।
সব ভোটকেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল (ভিভিপ্যাট) ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ভোটার পরিচয়পত্র (ইপিক) ভোটদানের প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে থাকবে। এছাড়া আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, মনরেগা জব কার্ড-সহ সরকার স্বীকৃত অন্যান্য পরিচয়পত্রও গ্রহণযোগ্য হবে।
নির্বাচনের সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট) কার্যকর হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের সময় তিন দফায় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিজেদের ওয়েবসাইট, সংবাদপত্র এবং সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ওই প্রার্থীদের অপরাধমূলক মামলার তথ্য এবং তাঁদের মনোনয়নের কারণ প্রকাশ করতে হবে।
‘নো ইয়োর ক্যান্ডিডেটস’ বিভাগে ইসিআইনেট-এও এই তথ্য উপলব্ধ থাকবে বলে কমিশন জানিয়েছে। এছাড়া গত ১০ বছরে সরকারি আবাসন ব্যবহার করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, জল ও টেলিফোন বাবদ বকেয়া না থাকার শংসাপত্র (নো ডিউজ সার্টিফিকেট) সংগ্রহের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



















