নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ জুন: শিক্ষক-ছাত্রীর পবিত্র সম্পর্কে চরম কলঙ্কলেপন। এক নাবালিকা ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে অধীর চন্দ্র দাস নামে এক গৃহশিক্ষককে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। শুক্রবার উদয়পুরের স্পেশাল জুডিশিয়াল আদালতের বিচারপতি রবি ধাইয়া পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সজাপ্রাপ্ত শিক্ষক অধীর চন্দ্র দাস রাধাকিশোরপুর থানার রাজনগর এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় ভগিনী নিবেদিতা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে উদয়পুরের এক নাবালিকা ছাত্রী ওই শিক্ষকের কাছে বাংলা ও এডুকেশন বিষয়ের টিউশন নেওয়া শুরু করে। একদিন টিউশনে যাওয়ার পথে অধীর তাকে ফুসলিয়ে ব্রম্মাবাড়িতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জলখাবারের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অচৈতন্য করে নাবালিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে।
শুধু তাই নয়, সেই আপত্তিকর দৃশ্যের ভিডিও মোবাইলে রেকর্ড করে রেখে শুরু হয় চরম ব্ল্যাকমেইলিং। সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন নির্জন জায়গায় ও জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নাবালিকার ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি নাবালিকাকে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানো এবং এই ঘটনা কাউকে জানালে তার বাবা ও ভাইকে খুন করার হুমকিও দেয় ওই লম্পট শিক্ষক।
পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে দীর্ঘদিন চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে নীরব থাকার পর, ২০২১ সালে নির্যাতিতা ও তার পরিবার অবশেষে সাহস জুগিয়ে রাধাকিশোরপুর মহিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার, সাব ইন্সপেক্টর রিপিতা ভট্টাচার্য্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেন এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালীন আদালত মোট ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করে।
সরকারি পক্ষের স্পেশাল পকসো আইনজীবী পল্টু দাস এই রায়ের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “একজন শিক্ষকের এমন নৃশংস ও সমাজবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছিলাম। আদালতের এই রায়ে নির্যাতিতা পরিবার অবশেষে পূর্ণ ন্যায়বিচার পেল।”
আদালতের এই যুগান্তকারী ও কঠোর রায়ে উদয়পুরের সচেতন মহলে স্বস্তির হাওয়া নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের মতে, এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি অত্যন্ত কড়া বার্তা পৌঁছাবে এবং শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশার মর্যাদা রক্ষা করবে।
























