আগরতলা, ১৯ জুন (আইএএনএস) : অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় আগরতলা রেলস্টেশনের ব্যাপক আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)। প্রথম পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই আগরতলা-করিমগঞ্জ রুটে নতুন মেমু (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এনএফআরের মহাব্যবস্থাপক চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে আগরতলা রেলস্টেশন চত্বরে একটি আধুনিক তিনতলা স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনি দুই দিনের ত্রিপুরা সফরে লামডিং ডিভিশনের অধীন বিভিন্ন রেল অবকাঠামো, ট্র্যাক, যাত্রী পরিষেবা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
মহাব্যবস্থাপক বলেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে ৪৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আধুনিকীকৃত স্টেশনে বাণিজ্যিক পরিসর, রেস্তোরাঁ, ক্যাফেটেরিয়া, উন্নত যাত্রী সুবিধা, আধুনিক রিটায়ারিং রুম, স্বল্পমূল্যের স্লিপিং পড, উন্নত পার্কিং ব্যবস্থা এবং সুপরিকল্পিত সার্কুলেটিং এরিয়া থাকবে। বর্তমানে স্টেশনে থাকা তিনটি জরাজীর্ণ রিটায়ারিং রুমের পরিবর্তে ৮ থেকে ১০টি আধুনিক কক্ষ নির্মাণ করা হবে, যা পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দেবে।
তিনি আরও জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় উত্তর ত্রিপুরার কুমারঘাট এবং গোমতী জেলার উদয়পুর রেলস্টেশনের উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগোচ্ছে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যাত্রী ও ট্রাফিকের চাপ বাড়লে আগরতলা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংখ্যা বর্তমান তিনটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভিড় সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আগরতলা-করিমগঞ্জ রুটে শীঘ্রই মেমু ট্রেন পরিষেবা চালুর ঘোষণা দেন শ্রীবাস্তব। সপ্তাহে ছয় দিন চলতে পারে এই ট্রেন, যা উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনে প্রথম মেমু পরিষেবা হিসেবে চালু হবে। এতে ত্রিপুরা ও অসমের দৈনন্দিন যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি অর্থবর্ষের শেষের মধ্যে অবশিষ্ট সব আইসিএফ কোচের পরিবর্তে আধুনিক ও নিরাপদ এলএইচবি কোচ চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
মহাব্যবস্থাপক জানান, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে অঞ্চলে শতভাগ রেল বিদ্যুতায়নের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরুর আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি চলছে।
ত্রিপুরার সেকেরকোটে রেল, পূর্ত দফতর এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি নতুন পেট্রোলিয়াম টার্মিনাল সাইডিং নির্মাণের কাজও চলছে, যার ফলে জ্বালানি পরিবহণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং রাজ্যে প্রায় ৩০ দিনের জ্বালানি মজুত রাখা সম্ভব হবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রীবাস্তব। এনএফআরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ত্রিপুরায় নিরাপদ রেল চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই দিনের সফরে মহাব্যবস্থাপক আগরতলা কোচিং ডিপো, কোচ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন। এছাড়া ট্রেন পরিচালনাকারী কর্মীদের জন্য থাকা রানিং রুমের আবাসন, স্বাস্থ্যবিধি ও অন্যান্য সুবিধাও পর্যালোচনা করেন।
শর্মা বলেন, ২০১৬ সালে আগরতলায় ব্রডগেজ পরিষেবা চালুর পর থেকে ত্রিপুরায় রেল সংযোগে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। আগরতলা-আখাউড়া আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ, নারাঙ্গি-আগরতলা এক্সপ্রেস এবং প্রস্তাবিত বৈদ্যুতিক মেমু ও বন্দে ভারত পরিষেবা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরা ও সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও যাত্রীবান্ধব রেল পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।
—
























