আগরতলা, ১৯ জুন : আগরতলা প্রধান ডাকঘরের মাধ্যমে বারবার মাদকদ্রব্য পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরব হল ডিওয়াইএফআই, এসএফআই এবং টিওয়াইএফ। তিন সংগঠনের সদর বিভাগীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে আগরতলা জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও)-এর সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, এর আগেও একাধিকবার আগরতলা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবারও একই ধরনের একটি ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো সন্দেহজনক পার্সেলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বিষয়টি পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশের কাছে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পার্সেলগুলি উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার বিক্ষোভে সামিল হয় ডিওয়াইএফআই, এসএফআই এবং টিওয়াইএফের কর্মী-সমর্থকরা। সংগঠনগুলির দাবি, ডাক বিভাগের মতো একটি সরকারি পরিষেবাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের ঘটনা বিরল। ফলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত সংগঠনের নেতৃত্ব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিজেপি শাসনামলে ত্রিপুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বিস্তার উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের বক্তব্য, রেলপথে এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে রাজ্যে নেশা সামগ্রী প্রবেশ করছে, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে।
সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘আপোষহীন নীতি’ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ডাক বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
























