ধর্মনগর, ১৯ জুন : ত্রিপুরা থেকে আসামে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের ঘটনায় চার বছর পর গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল উত্তর জেলা ও দায়রা আদালত। ওই মামলায় অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা সিজারুল এসকে-কে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাস কারাভোগ করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চুরাইবাড়ি থানার অন্তর্গত নাকা চেকপোস্টে নিয়মিত যানবাহন তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় ত্রিপুরা থেকে আসামগামী পশ্চিমবঙ্গের ডাব্লিউবি৫৯বি৩২৫৬ নম্বরের একটি ১২ চাকার পণ্যবাহী লরি আটক করা হয়। লরিটিতে চালক ফুলশাদ এসকে এবং সহকারী হিসেবে সিজারুল এসকে নামে দুই ব্যক্তি ছিলেন। উভয়ের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় দু’জনের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর আরও কড়া জিজ্ঞাসাবাদে চালক ফুলশাদ এসকে গাড়িতে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বহন করা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ লরিটিতে তল্লাশি চালিয়ে চালকের আসনের নিচে লুকিয়ে রাখা ৩৫টি বান্ডিল এবং গাড়ির ছাদের বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে আরও ৪৯টি বান্ডিল উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে মোট ৮৪টি বান্ডিল থেকে ৫৬০ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর চুরাইবাড়ি থানায় এনডিপিএস আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হলে মামলাটি উত্তর জেলার স্পেশাল এনডিপিএস আদালতে বিচারাধীন ছিল।
শুক্রবার মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে উত্তর জেলা ও দায়রা আদালতের বিশেষ এনডিপিএস আদালতের বিচারক অভিযুক্ত সিজারুল এসকে-কে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার অপর অভিযুক্ত তথা লরির চালক ফুলশাদ এসকে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আদালতে আর হাজিরা দেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক রয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আইনজীবী মহলের মতে, বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ঘটনায় আদালতের এই রায় মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা বহন করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আরও উৎসাহিত করবে।



















