জয়পুর, ১৯ জুন (আইএএনএস) : আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। ২০২১ সালে রাজস্থানে ৬০০ কেজিরও বেশি পোস্ত খোল (ডোডা চুরা) পাচারের মামলায় ছয় অভিযুক্তকে ১৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ভরতপুর জেলার ওয়েইরের বিশেষ এনডিপিএস আদালত।
শুক্রবার এনসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালত প্রত্যেক দোষীর উপর ২ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও ধার্য করেছে।
দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন সংঘরাম রাম বাওয়ারি, ধিমা রাম বিষ্ণোই, সুনীল, ওমা রাম, ভূট্টা রাম বাওয়ারি এবং কালু রাম জাট।
২০২১ সালের ৩ অক্টোবর নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনসিবির জয়পুর জোনাল ইউনিট ভরতপুর জেলার আমোলি টোল প্লাজার কাছে একটি ট্রাক এবং একটি এসকর্ট গাড়ি আটক করে। তল্লাশিতে ট্রাক থেকে ২৮টি বস্তায় ভরা মোট ৬১৯.৮ কেজি ডোডা চুরা উদ্ধার হয়।
পরবর্তীতে ছয়জনকেই গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবিত পদার্থ আইন (এনডিপিএস), ১৯৮৫-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঝাড়খণ্ড থেকে রাজস্থানে এই নিষিদ্ধ মাদক পরিবহনের জন্য অভিযুক্তরা ষড়যন্ত্র করেছিল। ভূট্টা রাম ওই চালানের মূল গ্রহীতা ছিলেন। বাকি অভিযুক্তরা মাদক পরিবহন, এসকর্ট গাড়ির ব্যবস্থা এবং অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে ছিল।
এনসিবির দাবি, পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাদক পাচারের ক্ষেত্রে রাজস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই রায় আন্তঃরাজ্য মাদক চক্র ভাঙতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির চলমান অভিযানে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে এনসিবির যোধপুর জোনাল ইউনিট জালোর জেলার সাঁচোরের কাছে ঝাড়খণ্ড থেকে বারমেরে পাচার হওয়ার পথে ২,৪১৩.৬৮ কেজি পোস্ত খোল উদ্ধার করেছিল। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
রায়কে স্বাগত জানিয়ে এনসিবি জানিয়েছে, মাদক পাচার চক্র ধ্বংস এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংস্থার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এই দণ্ডাদেশ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে মাদক পাচার সংক্রান্ত তথ্য ‘মানস’ জাতীয় মাদক হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩৩-এ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।



















