নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (আইএএনএস) : তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১৩ মে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালীন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবিতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ শুক্রবার মামলাটি শুনানির পর জানায়, আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলি অস্পষ্ট, ভিত্তিহীন এবং সেগুলির সমর্থনে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পেশ করা হয়নি।
আদালত তার নির্দেশে জানায়, “দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি হয়েছে। কিন্তু এই রিট পিটিশনটি অসংলগ্ন ও অস্পষ্ট অভিযোগের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলির পক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। তাই আদালতের হস্তক্ষেপের কোনও কারণ দেখা যাচ্ছে না।”
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করে, জনস্বার্থ মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় একটি মামলা খারিজ হওয়ায় তিনি হতাশ হবেন না।
আবেদনকারী কে. কে. রমেশের পক্ষে আইনজীবী জয়া সুকিন দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) সরকার আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সময় দুর্নীতি ও ঘোড়া-বেচাকেনার আশ্রয় নিয়েছিল। অভিযোগ করা হয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কয়েকজন বিধায়ককে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে সরকারের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়।
এছাড়াও আবেদনকারীর দাবি ছিল, আস্থা ভোট গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থীভাবে পরিচালিত হয়েছে। তাই বিধানসভা ভেঙে দিয়ে সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত।
আবেদনে ২০২৪ সালের সীতা সোরেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনপ্রণেতারা সংবিধানের ১০৫(২) এবং ১৯৪(২) অনুচ্ছেদের অধীনে সাংবিধানিক সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না।
এছাড়াও টিভিকে সরকারকে সমর্থন করা নিয়ে এআইএডিএমকের অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং আস্থা ভোটকে ঘিরে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় চলা মামলাগুলির কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকায় সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং তা খারিজ করে দেয়।



















