চেন্নাই, ৩ মে (আইএএনএস): বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে তামিলনাড়ু জুড়ে হোস্টেল ও পেয়িং গেস্ট (পি.জি) আবাসনের ভাড়া বাড়তে চলেছে। রাজ্যের আইটি হোস্টেল ও পি.জি মালিকদের এক সংগঠনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৫ মে থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে, যা গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিশেষ করে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি হোস্টেলগুলির উপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, নন-এসি আবাসনের ক্ষেত্রে চারজনের শেয়ারিং রুমের মাসিক ভাড়া ৬,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনজনের শেয়ারিং রুমে ভাড়া ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা এবং দু’জনের শেয়ারিং রুমে ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকার মধ্যে থাকবে।
তবে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে ভাড়ায় কিছুটা তারতম্য হতে পারে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বড় পরিসরে রান্নার কাজে নির্ভরশীল হোস্টেলগুলির খরচ অনেক বেড়েছে।
সরকারি মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ঘাটতির কারণেও অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। খরচ কমাতে কিছু হোস্টেল সাময়িকভাবে জ্বালানি কাঠের মতো বিকল্প ব্যবস্থায় গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলির দামও বাড়ায় তা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব হচ্ছে না।
রাজ্যে আনুমানিক ২০ হাজারের বেশি হোস্টেলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ থাকেন, যার বড় অংশই চেন্নাইয়ে। খরচ বাড়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে—কিছু হোস্টেল খাবারের পরিষেবা কমিয়েছে বা কিছু পদ বাদ দিয়েছে।
বাসিন্দারাও এই বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বাইরের খাবার বা প্যাকেটজাত খাবারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে মাসিক ব্যয় আরও বাড়ছে। পাশাপাশি কিছু আবাসনে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানির দামে দ্রুত স্বস্তি না মিললে আগামী দিনে আবাসন খরচ আরও বেশি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এতে তামিলনাড়ুর শহুরে মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী মানুষের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।



















