কৈলাসহর, ১ এপ্রিল: ঊনকোটি জেলায় গবাদি পশু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এবার চোরেরা তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। যাত্রী পরিবহনের ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে গরু পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতে সাহায্য করছে দুষ্কৃতীদের।
সম্প্রতি ইরানি থানা এলাকায় দুটি পৃথক ঘটনায় মোট পাঁচটি গবাদি পশু উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দুটি ছোট গাড়ি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে কৈলাসহর থানার অন্তর্গত হালাইছড়া এলাকায়, যেখানে অমল গোয়ালার দুটি গরু চুরি হয়। অপরদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ইরানি থানার অধীন হিরাছড়া এডিসি ভিলেজে, সেখান থেকে বিজয় রায়ের তিনটি গরু চুরি হয়।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই গবাদি পশুগুলো কোনো ট্রাক বা বড় যানবাহনে নয়, বরং ছোট যাত্রীবাহী গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল। ইরানি থানা এলাকার দুটি পৃথক স্থানে দ্রুত পালানোর সময় গাড়ি দুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে গাড়ি ও গরুগুলি আটক করেন। তবে অন্ধকারের সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
খবর পেয়ে ইরানি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি দুটি এবং পাঁচটি গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধাম্বিকা আর (আইপিএস) জানান, ছোট যাত্রীবাহী গাড়ি ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের মনে সহজে সন্দেহ জাগছে না, যা পাচারকারীদের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অন্য ঘটনাটির ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহর মহকুমার পুলিশ আধিকারিক এ. রাগুল এবং ইরানি থানার ওসি বিরাজ দেববর্মা।
এদিকে, দিনের আলোতে কিংবা বাড়ির সামনে থেকে গবাদি পশু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট রাস্তা ব্যবহার করে দ্রুত পালানোর কারণে দুষ্কৃতীদের ধরা কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



















