মুম্বইয়ে রিয়েল এস্টেট জালিয়াতি: ৪১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

মুম্বই, ২৭ মার্চ (আইএএনএস): মুম্বইয়ের গোরেগাঁও এলাকার ‘গোরেগাঁও পার্ল সিএইচএস’ প্রকল্পে বাড়ি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রায় ৪১.৭০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, দোকান ও অফিস স্পেস বাজেয়াপ্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

ইডির মুম্বই জোনাল দফতর গত ২৫ মার্চ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় এই সম্পত্তিগুলি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত (প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট) করে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিক নির্মিত আবাসিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক দোকান ও অফিস স্পেস রয়েছে, যা ‘গোরেগাঁও পার্ল সিএইচএস’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

তদন্তে জানা গেছে, এই সম্পত্তিগুলি প্রথমে ‘সাই সিদ্ধি ডেভেলপার্স’-এর মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। সংস্থাটি কিছু ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ইউনিট বাইরের ক্রেতাদের কাছে আংশিক বা পূর্ণ অর্থ নিয়ে বিক্রি করলেও, সেই ক্রেতারা এখনও পর্যন্ত কোনও ফ্ল্যাট পাননি বা টাকাও ফেরত পাননি।

ইডির দাবি, সাই সিদ্ধি ডেভেলপার্সের কর্তা জয়েশ টান্না প্রতারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা এই মামলায় ‘অপরাধের আয়’ (প্রসিডস অফ ক্রাইম) হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

মুম্বই পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি এই তদন্ত শুরু করে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ চার্জশিটও জমা দিয়েছে।

ইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, জয়েশ টান্না প্রকল্পের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, যার ফলে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হয়নি এবং ক্রেতাদের প্রায় ৪৭.৫১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে, জয়েশ টান্না ও সাই গ্রুপের অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলায় ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মুম্বইয়ের নয়টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই মামলায় তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৩৫.৮৯ কোটি টাকার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত।

Leave a Reply