এলপিজি সরবরাহ বাড়িয়ে ৭০%, শ্রমঘন শিল্পে অগ্রাধিকার কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ (আইএএনএস): ইরান যুদ্ধের জেরে গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সৃষ্ট সংকটের মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্র, রং, রাসায়নিক ও প্লাস্টিকের মতো শ্রমঘন শিল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ, এই ক্ষেত্রগুলি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেও সহায়তা করে।

বিশেষত যেসব প্রক্রিয়াভিত্তিক শিল্পে এলপিজি বিশেষ ধরনের উত্তাপের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং যা প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, সেগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে, বর্তমান ৫০ শতাংশ বরাদ্দের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ যোগ করা হচ্ছে, ফলে মোট সরবরাহ প্রাক-সংকট স্তরের ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে।

তবে এই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ সুবিধা পেতে হলে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের তেল বিপণন সংস্থাগুলির সঙ্গে নথিভুক্ত হতে হবে এবং নিজ নিজ শহরের সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার কাছে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস-এর জন্য আবেদন করতে হবে। তবে যেসব শিল্পে এলপিজির বিকল্প নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

এছাড়া, যেসব রাজ্য এখনও ১০ শতাংশ সংস্কারভিত্তিক বরাদ্দ গ্রহণ করেনি, তাদের দ্রুত তা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্র। এতে মোট সরবরাহ ৭০ শতাংশে পৌঁছবে এবং শিল্প কার্যক্রমে স্বস্তি মিলবে।

এর আগে ২১ মার্চ ঘোষিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দে রেস্তোরাঁ, ধাবা, হোটেল, শিল্প ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও দুগ্ধ শিল্প, সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ক্যান্টিন এবং কমিউনিটি কিচেনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজি ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩৭ হাজারেরও বেশি ৫ কেজি ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন নিজেদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই এলপিজি সিলিন্ডার বণ্টন করবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় এলপিজি বহনকারী জাহাজগুলির চলাচলে আরও ছাড় দেবে। এই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply