আগরতলা, ২৬ মার্চ: প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও সমস্ত শাস্ত্রীয় বিধি মেনে আগরতলার আনন্দময়ী আশ্রমে অনুষ্ঠিত হল কুমারী পূজা। বাসন্তী পূজোর দ্বিতীয় দিন মহাঅষ্টমী তিথিকে কেন্দ্র করে আশ্রম প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়। এদিন এক ৬ বছর বয়সি বালিকাকে কুমারী মা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে পূজা অর্চনা করা হয়। পুরাণ মতে, কুমারী পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গার জীবন্ত রূপ হিসেবে কন্যাশিশুকে আরাধনা করা হয়, যা বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য।
প্রসঙ্গত, পুরাণে বর্ণিত রয়েছে যে দেবতারা যখন অসুরদের অত্যাচারে বিপর্যস্ত হয়ে মহাকালীর শরণাপন্ন হন, তখন দেবী কুমারীরূপে আবির্ভূত হয়ে বানাসুরকে বধ করেন এবং স্বর্গ ও মর্ত্যলোককে রক্ষা করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই কুমারী পূজার প্রচলন। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে কুমারী পূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করেন ভক্তরা। তাঁদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে কুমারী পূজা করলে জীবনের নানা বিপদ-আপদ দূর হয় এবং দেবীর কৃপা লাভ করা যায়। ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই পূজার গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। ১৮৯৮ সালে স্বামী বিবেকানন্দ প্রথম কুমারী পূজার প্রচলন করেন।
আশ্রমের পুরোহিত জানান, প্রাচীন রীতি মেনেই প্রতি বছর মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শাস্ত্রসম্মতভাবে পূজা সম্পন্ন হয়েছে। পূজা শেষে ভক্তরা কুমারী মায়ের চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন এবং আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

