খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে তফসিলি জাতির মর্যাদা থাকে না: সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি, ২৪ মার্চ(আইএএনএস): খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে তফসিলি জাতি (এসসি) হিসেবে স্বীকৃতি আর বজায় থাকে না—এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম আদালত। আদালত জানিয়েছে, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম মানলে এসসি মর্যাদা দাবি করা যাবে না।

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন. ভি. আনজারিয়া-র বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বলেছে, সংবিধানের ১৯৫০ সালের তফসিলি জাতি আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা “সম্পূর্ণ ও ব্যতিক্রমহীন”।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, “যে ব্যক্তি হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম পালন করেন, তাঁকে তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না।” ফলে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই ওই মর্যাদা হারাতে হয়।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত লক্ষ্য করে যে, আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করছেন এবং গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাস্টর হিসেবে কাজ করছেন ও নিয়মিত প্রার্থনা পরিচালনা করছেন। এতে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ।

আদালত আরও জানায়, আবেদনকারী খ্রিস্টধর্ম থেকে পুনরায় নিজের মূল ধর্মে ফিরে এসেছেন—এমন কোনও দাবি করেননি বা তাঁর সম্প্রদায়ও তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করেছে—এমন প্রমাণ নেই। ফলে তিনি একইসঙ্গে অন্য ধর্ম পালন করে এসসি মর্যাদা দাবি করতে পারেন না।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের রায়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট জানিয়েছিল, খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে পাস্টর হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি তফসিলি জাতির জন্য প্রযোজ্য আইনি সুরক্ষা, বিশেষ করে এসসি/এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের সুবিধা নিতে পারেন না।

হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করেছিল, খ্রিস্টধর্মে বর্ণব্যবস্থার কোনও স্থান নেই, তাই ধর্মান্তরের পর তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে থাকা যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে স্পষ্ট হল, ধর্মান্তরিত হলে তফসিলি জাতির সাংবিধানিক মর্যাদা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়।

Leave a Reply