তেলিয়ামুড়া, ১৯ মার্চ: উন্নয়নের রূপরেখা যতই উচ্চাভিলাষী হোক, তার ভিত্তি যদি দুর্বল হয়, তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়তে সময় লাগে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন যেখানে জনজীবনের অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি, সেখানে নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু একটি প্রকল্প নয়, সমগ্র উন্নয়ন দর্শনকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
তেলিয়ামুড়ার করইলং এলাকায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। বুধবার সন্ধ্যায় নির্মীয়মাণ একটি সেতুর ‘সেন্টারিং ও শাটারিং’ সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নির্মাণকাজের মান কি আদৌ নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই একাধিক অনিয়ম চোখে পড়ছিল। ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে সংশয়, কাজের ধীরগতি এবং তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি নিয়ে আগেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির সুযোগেই ঠিকাদার সংস্থা নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে সামান্য প্রাকৃতিক পরীক্ষাতেই সেই দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। জানা গেছে, জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনে এই নির্মাণকাজ চলছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণের এই পর্যায়ে সেন্টারিং ও শাটারিং ভেঙে পড়া অত্যন্ত গুরুতর ত্রুটি। এটি পরিকল্পনা, উপকরণ নির্বাচন এবং বাস্তবায়নের একাধিক স্তরে গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়। ফলে ভবিষ্যতে পুরো সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের কথায়, “আজ যদি সেন্টারিং ভাঙে, কাল পুরো সেতু ভাঙতে কতক্ষণ?”—এই আশঙ্কাই এখন সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্তদের চিহ্নিত করতে হবে এবং নির্মাণকাজে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে না আসায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, উন্নয়নের নামে যদি এমন অবহেলা চলতে থাকে, তবে তার খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।
তেলিয়ামুড়ার এই ঘটনা যেন এক সতর্কবার্তা—উন্নয়নের পথ শুধু দ্রুতগতির হলেই চলবে না, তা হতে হবে দৃঢ় ও নিরাপদও। কারণ, একটি সেতু শুধু রাস্তার দুই প্রান্তকে নয়, মানুষের বিশ্বাসকেও যুক্ত করে। আর সেই বিশ্বাস ভেঙে পড়লে তার পুনর্গঠনই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে।

