নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ৮৮টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার দলটির তরফে প্রকাশিত প্রথম প্রার্থী তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে জালুকবাড়ি আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। দিশপুর কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছেন সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রদ্যুত বরদলৈ।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
প্রকাশিত তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও লড়ছেন জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে, যা বর্তমানে তাঁর দখলেই রয়েছে এবং বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
প্রবীণ মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারিকে প্রার্থী করা হয়েছে টিহু থেকে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগকে ফের গোলাঘাট কেন্দ্র থেকেই লড়তে দেওয়া হয়েছে।
শহুরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে দিশপুরে প্রার্থী হয়েছেন প্রদ্যুত বরদলৈ, নিউ গুয়াহাটি কেন্দ্রে দীপ্লু রঞ্জন শর্মা এবং গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রে বিজয় কুমার গুপ্ত। এই প্রার্থী বাছাইয়ে নগরাঞ্চলে নিজেদের দখল আরও মজবুত রাখার কৌশল স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রদ্যুত বরদলৈ বুধবারই নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দেন। পাশাপাশি তিনি নগাঁও লোকসভা আসনের সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।
উপর অসমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, ডিগবয়, ডুমডুমা ও মার্ঘেরিটার মতো কেন্দ্রগুলিতে দল প্রার্থী দিয়েছে।
মার্ঘেরিটা থেকে ভাস্কর শর্মা, ডিব্রুগড় থেকে প্রশান্ত ফুকন এবং ডিগবয় থেকে সুরেন ফুকনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
মধ্য ও নিম্ন অসমেরও একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। রাঙিয়া, নলবাড়ি, বরহমপুর, সমাগুড়ি এবং নগাঁও-সহ বিভিন্ন আসনে দল প্রার্থী দিয়েছে।
বরহমপুরে জিতু গোস্বামী এবং নগাঁও-বটদ্রবা কেন্দ্রে রূপক শর্মাকে প্রার্থী করা হয়েছে।
তফসিলি জনজাতি ও সংরক্ষিত আসনগুলির ক্ষেত্রেও বিজেপি গুরুত্ব দিয়েছে। বকো-ছয়গাঁও (এসটি), তামুলপুর (এসটি), ধেমাজি (এসটি), মাজুলি (এসটি), বোকাজান (এসটি) এবং ডিফু (এসটি)-র মতো আসনে প্রার্থী দিয়ে আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে দল।
বিজেপির এই প্রথম তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হয়েছে, তেমনই জায়গা পেয়েছেন নতুন মুখও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ককে মজবুত করতেই এই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির।
দলীয় সূত্রের দাবি, বাকি আসনগুলির জন্য আরও প্রার্থীর নাম শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। আসন্ন হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি ধাপে ধাপে তাদের নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করছে।

