নিউ ইয়র্ক, ১৪ মার্চ: বিশ্বের নানা সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে আগামী মাসে শুরু হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি অ্যানালেনা বেয়ারবক।
তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত হবে এবং প্রতিটি প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে প্রতিটি প্রার্থীকে তিন ঘণ্টার একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নিতে হবে। সেখানে তারা রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন। এই আলোচনা সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন এবং পুরো অনুষ্ঠান অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে।
গত বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও তৎকালীন নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির পক্ষ থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই সময় বিশেষভাবে মহিলা প্রার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়, কারণ প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনও নারী রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব হননি।
এখন পর্যন্ত মনোনীত পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারী এবং দু’জন পুরুষ।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, যিনি একসময় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারও ছিলেন। তাঁকে চিলি, ব্রাজিল ও মেক্সিকো মনোনয়ন দিয়েছে।
এছাড়া রয়েছেন কোস্টা রিকার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। তৃতীয় নারী প্রার্থী হলেন আর্জেন্টিনার ভার্জিনিয়া গাম্বা, যিনি আগে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এবং সেনেগালের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল।
প্রার্থী মনোনয়নের শেষ তারিখ ১ এপ্রিল। তার আগে আরও নতুন প্রার্থী সামনে আসতে পারেন।
যদিও সাধারণ পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মহাসচিব নির্বাচিত হন, বাস্তবে সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কারণ রাষ্ট্রসংঘ সনদ অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছর তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন আনালেনা বেয়ারবক।

