কলকাতা, ৯ মার্চ (আইএএনএস): রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো নোটিসের জবাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবারই এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-র দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় এবং সেদিন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
রাজ্য সচিবালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তোলা প্রতিটি প্রশ্নেরই পয়েন্ট ধরে ব্যাখ্যা দিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তবে রিপোর্টের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
এই বিষয়ে রবিবারই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি শনিবার শিলিগুড়ির কাছে বাগডোগরা বিমানবন্দর-এ পৌঁছলে প্রোটোকল অনুযায়ী শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব, দার্জিলিং জেলার জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “প্রোটোকল ভঙ্গের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে আমার উপস্থিত থাকার বা মঞ্চে থাকার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।”
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর প্রথমে শুক্রবার নির্ধারিত থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন।
তারপর দার্জিলিং জেলার ফাঁসি দেওয়া এলাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। তবে পরে অনুষ্ঠানের ভেন্যু বদলে গোসাইপুর করা হয়, যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
পরে রাষ্ট্রপতি আবার ফাঁসিদেওয়াতেই যান, যেখানে প্রথমে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখানে তিনি রাজ্য প্রশাসনের প্রতি হালকা অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যদিও একই সঙ্গে তিনি বলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোট বোনের মতো।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি, যা সাধারণত রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রচলিত রীতি ও প্রোটোকলের অংশ।
এই মন্তব্যের পরই রাজ্যের শাসকদল ও ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। এরপরই রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজ্য সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চায়।

