নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ২০২১ সালের গোপনীয়তা নীতি ও তথ্য ভাগাভাগি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিযোগিতা কমিশনের আরোপিত ২১৩.১৪ কোটি টাকার জরিমানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আপিলের শুনানি সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হতে চলেছে। মেটা প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ এলএলসি ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলএটি)-এর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশন (সিসিআই)-এর জরিমানাকে বহাল রাখা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত কার্যতালিকা অনুযায়ী, বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চে সোমবার দুপুর ২টায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলিও থাকবেন।
এর আগে প্রধান বিচারপতি কান্তের বেঞ্চ হোয়াটসঅ্যাপের ২০২১ সালের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছিল, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ‘গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে খেলা’ করতে দেওয়া যায় না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, আপডেটেড গোপনীয়তা নীতি কার্যত ‘নাও বা ছাড়ো’ ধরনের ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীদের সামনে বাস্তবিক কোনও বিকল্প নেই।
আদালতের মন্তব্য ছিল, “বাজারে আপনার সম্পূর্ণ একচেটিয়া প্রভাব। এটাকে পছন্দ বলছেন কীভাবে? হয় হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ুন, না হলে আপনার তথ্য ভাগ করা হবে।”
সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর এর প্রভাব নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “রাস্তায় ফল বিক্রি করা এক গরিব মহিলা কি আপনার নীতির শর্ত বুঝতে পারবেন? ভাষা এত চতুরভাবে লেখা যে আমাদের মধ্যেও অনেকে তা বুঝতে নাও পারেন।”
আদালত আরও মন্তব্য করে, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের এই পদ্ধতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং “ব্যক্তিগত তথ্য চুরির শালীন পদ্ধতি”-র সঙ্গে তুলনীয়।
উল্লেখ্য, সিসিআই হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা করেছিল। অন্যদিকে, সিসিআই-ও এনসিএলএটি-র সেই অংশের বিরুদ্ধে পাল্টা আপিল করেছে, যেখানে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর তথ্য ভাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমানে ব্যক্তিগত তথ্যের বড় আর্থিক মূল্য রয়েছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপকে হলফনামা দাখিল করে তাদের গোপনীয়তা নীতি, তথ্য ভাগাভাগির কাঠামো এবং ব্যবহারকারীর সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।

