ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসচক্রের ছক: তামিলনাড়ু ও বাংলায় গ্রেফতার ৮, পাকিস্তান ও বাংলাদেশি জঙ্গি যোগের অভিযোগ

নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সমর্থনে পোস্ট করত এবং বৈধ নথি ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিল। এর আগে তামিলনাড়ু থেকে ছয়জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও দু’জনকে ধরা হয়। আটজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়াদিল্লিতে আনা হচ্ছে।

নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, ধৃতরা সীমান্তের ওপার থেকে সক্রিয় চরমপন্থী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং উস্কানিমূলক অনলাইন কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা শহরগুলির রেকি করেছিল এবং নয়াদিল্লিতে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ পোস্টার লাগিয়েছিল। আটজনের মধ্যে চারজন ইন্ডিয়া-এআই সামিট চলাকালীন দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ ও অন্যান্য আপত্তিকর পোস্টার টাঙিয়ে পরে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যায়।

দিল্লি পুলিশ-এর কিউ শাখার একটি দল তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় তিনটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়। সেখানে মিজানুর রহমান, মহম্মদ শাবাত, উমর, মহম্মদ লিতান, মহম্মদ শাহিদ ও মহম্মদ উজ্জ্বল নামে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তল্লাশিতে আটটি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাজেয়াপ্ত ডিভাইসগুলি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে কনটেন্ট শেয়ার এবং সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যবহৃত হত। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সেগুলি পাঠানো হয়েছে, যাতে বড় কোনও নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা যায়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত ছয়জন কিছুদিন ধরে তিরুপ্পুরে বসবাস করছিল এবং উথুকুলি, থিরুমুরুগানপুন্ডি ও পল্লাদম এলাকার পোশাক কারখানায় কাজ করছিল। তাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না বলেও অভিযোগ। নকল আধার কার্ড ব্যবহার করে কাজ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ।

অভিযুক্তরা কোনও সংগঠিত জঙ্গি চক্রের অংশ কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদিকে, গোটা অঞ্চলে নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

এছাড়া নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা দিল্লির লাল কেল্লা-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে হামলার ছক কষছে। চাঁদনি চক এলাকার একটি মন্দিরও তাদের সম্ভাব্য নিশানায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply