মার্কিন আদালতের রায়ে ভারতসহ একাধিক দেশের ওপর অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

ওয়াশিংটন, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের অধিকার হারানোয় ভারতসহ একাধিক দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ সমান শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত, ইউকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপান আপাতত একই হারে শুল্কের আওতায় পড়বে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। ফলে ওই আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক কার্যকর থাকছে না। এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপর সেকশন ১২২ আইনের ভিত্তিতে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

প্রশাসনের মতে, এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অস্থায়ী। কর্মকর্তা জানান, প্রশাসন ইতিমধ্যে অন্যান্য আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে পূর্বনির্ধারিত বা উপযুক্ত শুল্কহার কার্যকর করার পথ খুঁজছে। ততদিন পর্যন্ত অংশীদার দেশগুলোকে বাণিজ্য বাধা কমানোসহ চুক্তির শর্ত মানার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প একে “গভীরভাবে হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, আদালত শুল্ক নীতিকে বাতিল করেনি, কেবল নির্দিষ্ট আইনের ব্যবহার সীমিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সেকশন ২৩২ ও বিদ্যমান সেকশন ৩০১ শুল্ক বহাল থাকবে এবং সেকশন ১২২-এর আওতায় নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আদালতের রায় প্রশাসনের বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার একটি অংশকে প্রভাবিত করলেও অন্যান্য আইনি ক্ষমতার আওতায় ব্যাপক শুল্ক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ শতাংশ কমেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, সেকশন ১২২-এর আওতায় আরোপিত এই অস্থায়ী শুল্ক ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ওষুধ, কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, মহাকাশ পণ্য ও তথ্যসামগ্রী এই শুল্কের বাইরে থাকবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি পরিবর্তিত হলেও বাণিজ্য চুক্তির মূল শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে এবং অংশীদার দেশগুলো সেগুলি মেনে চলবে বলে তারা আশাবাদী।

Leave a Reply