এডিসি মেয়াদ শেষের মুখে, মুঙ্গীয়াকামী ব্লকে এখনও অধরা মৌলিক পরিকাঠামো

তেলিয়ামুড়া, ১৮ ফেব্রুয়ারী:
স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি)-র পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চললেও তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গীয়াকামী ব্লকের একাধিক প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এখনও মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১১ মহারানী তেলিয়ামুড়া এডিসি-র অন্তর্গত নোনা ছড়া এডিসি ভিলেজের নবজয় দত্ত মলসম পাড়া-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শিক্ষার মতো প্রাথমিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা এলেই ভগ্নদশাগ্রস্ত রাস্তায় চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। বাজারে যাতায়াত থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়মিত স্কুলে পৌঁছনো পর্যন্ত সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

এই এলাকা থেকেই এডিসি-র নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য (ইএম) কমল কলই জয়ী হয়েছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি নিয়মিত এলাকায় এলেও প্রশাসনিক স্তরে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, মনটাং ভ্যালি নামে একটি পর্যটন কেন্দ্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠলেও সেই পর্যটন কেন্দ্রের দিকেই যাওয়া ভাঙাচোরা রাস্তাগুলির সংস্কারে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এদিকে নোখায়ুং হামখ্রাই সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমাজকল্যাণ ও শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। সেখানে সুযোগ পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা সরাসরি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পানীয় জল, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও শিক্ষার মতো মৌলিক পরিষেবায় ঘাটতির অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তোলা হয়।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, গত পাঁচ বছর এডিসি প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা তিপ্রা মথা দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকায় গেলেও উন্নয়নের প্রশ্নে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব নিয়ে অভিযোগ উঠছে। তিনি আশ্বাস দেন, মানুষের সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ২০২৬ সালের এডিসি ভিলেজ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যদি ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসে, তবে রাস্তাঘাট-সহ সমস্ত মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ভোটের আগে প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে উন্নয়নই যে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি কত দ্রুত হয় এবং বাস্তবে উন্নয়নের চাকা আদৌ কতটা গতি পায়।

Leave a Reply