চীনা রোবোটিক কুকুর বিতর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: অশ্বিনী বৈষ্ণব

নয়াদিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): চীনা তৈরি রোবোটিক কুকুরকে ভারতীয় উদ্ভাবন হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বুধবার জানালেন, এআই সামিট এক্সপোতে যে কোনও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রদর্শনীতে বহু ভাল সমাধান উপস্থাপিত হয়েছে। যদি কেউ ভুল করে থাকে, তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য ভাল এআই সমাধানগুলির দিকেও নজর দেওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ‘ওরিয়ন’ নামে একটি চীনা রোবোটিক কুকুরকে নয়ডা-ভিত্তিক গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়-এর উদ্ভাবন বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, বিষয়টি “অতিরঞ্জিত ও ভুল ব্যাখ্যা” করা হয়েছে এবং তাদের কাজ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও মিশনের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। তবে বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, ভারতকে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ নষ্ট হয়েছে এবং “মোদী সরকার দেশকে বিশ্বের কাছে হাস্যস্পদ করে তুলেছে।” কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামিটকে “অগোছালো পিআর প্রদর্শনী” বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, “ভারতের প্রতিভা ও ডেটাকে কাজে লাগানোর বদলে এআই সামিট পরিণত হয়েছে বিশৃঙ্খল পিআর শো-তে—ভারতের ডেটা বিক্রির জন্য, আর চীনা পণ্য প্রদর্শনের জন্য।”

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইঙ্গিত মিলেছে যে বিতর্ক ধীরে ধীরে স্তিমিত হতে পারে। শীর্ষ সূত্রের দাবি, গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়কে এআই এক্সপো থেকে স্টল গুটিয়ে নিতে বলা হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাঁদের ‘সরে যেতে বলা হয়েছে’—এমন কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নেহা সিংহ বলেন, “আমরা এখানে ছাত্রদের কাজ প্রদর্শন করতে এসেছি। ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার সঙ্গেই কাজ করছি।”

মঙ্গলবার এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমের সামনে রোবোটিক কুকুরটির বৈশিষ্ট্য ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ব্যাখ্যা করে সেটিকে তাদের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এর উদ্ভাবন বলে দাবি করার পরই বিতর্কের সূত্রপাত। সামাজিক মাধ্যমে বহু নেটিজেন বিদেশি পণ্যকে দেশীয় উদ্ভাবন হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টাকে “লজ্জাজনক” বলে সমালোচনা করেন।

Leave a Reply