এডিসি ভোটের আগে তিপ্রা মথায় ভাঙন অব্যাহত, ডেমছড়া–কচুছড়ায় ২১৫ জনের বিজেপিতে যোগদান

আগরতলা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেই তিপ্রা মথা দলে ভাঙনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ডেমছড়া ও কচুছড়া এলাকায় প্রায় ২১৫ জন ভোটার তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। নবাগতদের দলে বরণ করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, সহ মন্ত্রী টিংকু রায়, মন্ত্রী সুধাংশু দাস সহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্বগন।

এদিন আয়োজিত এক যোগদান সভায় উপস্থিত থেকে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, জনজাতি এলাকায় তিপ্রা মথার শাসনামলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।

তিনি বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন তিপ্রা মথার সঙ্গে থেকেও কোনও বাস্তব উন্নয়ন চোখে দেখতে পাননি। জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনজাতি অংশের মানুষ এখন বিজেপির উন্নয়নমূলক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলে যোগদান করছেন।

নিজের উপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে খুন করে যদি তিপ্রাসার উন্নতি হয় তাহলে আমি একশো বার হাসতে হাসতে নিজের প্রাণ দিতে রাজি আছি।” তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরায় সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং জনজাতি কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে মানুষের আস্থা ক্রমশ বিজেপির দিকে বাড়ছে বলে তাদের বক্তব্য।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এডিসি এলাকায় এবার তাদের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করবে। যদিও এই বিষয়ে তিপ্রা মথার তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এডিসি ভোটকে ঘিরে আগামী দিনগুলিতে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় দলবদল ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply