কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত কয়লা পাচার মামলায় তদন্ত চালাতে গিয়ে হাওলা চক্রের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ সরানোর যোগ খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অপরাধলব্ধ অর্থের একটি অংশ প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, হাওলা রুটে অর্থ সরিয়ে সেই টাকা বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে স্থানীয় ব্যবসা ও রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই লেনদেন চলত বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে ঘোরাফেরা করা টাকার পরিমাণ ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।
সূত্রের আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কয়লাক্ষেত্র সংলগ্ন কয়েকটি থানার কিছু পুলিশকর্মী এবং রাজ্য বনদফতরের কিছু আধিকারিকও এই চক্রে জড়িত থাকতে পারেন।
গত সপ্তাহে ইডি জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় ১০০.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত (প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট) করা হয়েছে। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড-এর লিজ নেওয়া এলাকায় ব্যাপক বেআইনি কয়লা উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে এই অর্থের যোগ রয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩২২.৭১ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। সেই তল্লাশি থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও তথ্যই সংযুক্ত সম্পত্তির সঙ্গে অপরাধলব্ধ অর্থের যোগসূত্র প্রমাণে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
সম্প্রতি এই মামলায় ইডির তল্লাশি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, যখন সল্টলেকে অবস্থিত ভারতীয় রাজনৈতিক কর্ম কমিটি (আই-প্যাক) দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈন-এর বাসভবনে একযোগে অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ওই দুই জায়গায় যান এবং পরে কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট-এ বিচারাধীন।

