নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ ফেব্রুয়ারি: জনজাতি অংশের ভাই বোনদের প্রকৃত উন্নয়ন ছাড়া এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়া সম্ভব নয়। রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে জনজাতি জনপদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে। বর্তমান রাজ্য সরকার সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ‘মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনা’র অধীনে সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়ন রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। তাদের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনা চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতি পরিবারগুলিকে পশুপালন সহ বিভিন্ন জীবিকামুখী কর্মকান্ডে উৎসাহিত করে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের বর্তমান সরকার জনজাতিদের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পরম্পরার উৎকর্ষ সাধনে বর্তমান রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতার কথাও ত্রিপুরার মানুষের রয়েছে। বিগত দিনে এই চিত্র লক্ষ্য করা যেতনা। বর্তমান সরকার শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে জানে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে দীর্ঘ ২৩ বছরের রিয়াং শরণার্থী সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসন তথা আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনায় প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৯ হাজার ৭৭৯ জন জনজাতি সুবিধাভোগী এই সহায়তা পেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার জনজাতি অংশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের মর্যাদা বাড়াতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। রাজ্যের তথা কেন্দ্রের উন্নয়নের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জনজাতি এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জনজাতিদের কল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন, মহিলা বয়নশিল্পীদের বিনামূল্যে সুতা প্রদান, একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন, জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন হোস্টেল নির্মাণ, বৃত্তির অর্থ বৃদ্ধি, জনজাতি এলাকায় যোগাযোগের সম্প্রসারণ, আগরতলা বিমানবন্দরের নাম মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যের নামে নামাঙ্কিতকরণ, গড়িয়া পূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি, জনজাতি সমাজপতিদের ভাতা বৃদ্ধি করা, প্রি-মেট্রিক বৃত্তি বাড়ানো, আগরতলার জিরো পয়েন্টে মহারাজা বীরবিক্রম মাণিক্য বাহাদুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন, বড়মুড়া, আঠারোমুড়া, গন্ডাছড়ার নাম পরিবর্তন করে যথাক্রম হাতাইকতর, হাচুকবেরেম, গন্ডাতুইসা রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় বসবাসকারী ১৯টি জনজাতিগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রাজ্যের গর্ব। বাঙালী, মনিপুরি, সংখ্যালঘু সবার সংস্কৃতি রক্ষায় এবং সন্মান জানাতে এই সরকার আন্তরিক। ভারতের মানচিত্রে ত্রিপুরা বর্তমানে সমস্ত ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল স্থানে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সবার মিলিত প্রয়াসে নতুন এবং উন্নয়নমুখী ত্রিপুরা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনা শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি জনজাতি ভাই বোনদের স্বনির্ভর করে তুলতে সরকারের ইতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন। রাজ্য সরকার প্রতিনিয়ত জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়াস জারি রেখেছে। জনজাতিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, রাজ্যের জনজাতি অংশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জনজাতি এলাকার উন্নয়নে এবং জনজাতি মানুষের সার্বিক বিকাশে রাজ্য বাজেটেও বিরাট সংস্থান রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনজাতি সুবিধাভোগীদের হাতে অর্থের প্রতিকী চেক তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিগণ তাদের হাতে সেই ডেমো চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে শশীকুমার। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা শীর্ষেন্দু দেববর্মা।

