মস্কো, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে অংশ নেবে না রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রুশ বিদেশ মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেছে।
সাংবাদিক সন্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, রাশিয়া আসন্ন বোর্ড অব পিস বৈঠকে অংশ নেবে না।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ সম্পর্কে রাশিয়ার অবস্থান নির্ধারণের কাজ এখনও চলছে। রাশিয়ার সংবাদসংস্থা তাস জানিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকের আয়োজন করতে চলেছে। তার আগে মস্কোর এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, এই উদ্যোগ নিয়ে মস্কো নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিম ও পূর্বের বহু দেশ, এমনকি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরাও এই প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সেই বিষয়টিও রাশিয়া বিবেচনা করছে।
গত ২২ জানুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত থাকা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ‘বোর্ড অব পিস’-এর জন্য ব্যয় করতে মস্কো প্রস্তুত। এমনকি এই উদ্যোগে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই এই অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মাসে দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, সীমান্তপথ খুলে দেওয়া, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এই মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্যোগটির ঘোষণার আগে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ দিন। যুদ্ধ থেকে পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
পরবর্তীতে গাজার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্য, আমি মূলত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। এখানে সবটাই লোকেশন নিয়ে। সমুদ্রের ধারে এই সুন্দর জায়গাটি বহু মানুষের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
রাশিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রথম বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

