তেলিয়ামুড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি:
দেশব্যাপী ডাকা ধর্মঘটের কোনো প্রভাবই কার্যত পড়েনি ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়া ও ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকায়। সকাল গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে কোনো ছেদ পড়েনি। বিদ্যালয়ে নিয়মমাফিক পাঠদান, রাস্তায় স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল এবং বাজার-হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
তেলিয়ামুড়া বিধানসভা এলাকার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সকাল থেকেই পড়ুয়া ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের কোলাহল এবং অভিভাবকদের ব্যস্ততায় ধর্মঘটের কোনো প্রভাবই লক্ষ্য করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ধর্মঘটের ডাক থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তেলিয়ামুড়া মহকুমার প্রাণকেন্দ্র অম্পি চৌহমনী এলাকাতেও চিত্র ছিল একই। অন্যান্য দিনের মতোই দোকানপাট খোলা ছিল এবং ছোট-বড় যানবাহনের চলাচল ছিল অব্যাহত। পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী জানান, ধর্মঘট রয়েছে এমন কোনো পরিস্থিতিই তাঁরা অনুভব করেননি।
অন্যদিকে, ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা যায় বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকদের। নেতৃত্বে ছিলেন মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি নির্মল দেবনাথ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেননি। সকাল থেকেই বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, বাজার ও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল এবং মানুষ নিত্যদিনের কাজকর্মে বেরিয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, বেচাকেনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক এবং গণপরিবহণও নিয়মমাফিক চলেছে।
সামগ্রিকভাবে তেলিয়ামুড়া ও কৃষ্ণপুরের চিত্রে স্পষ্ট, ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও জনজীবন ছিল প্রায় অক্ষত। রাজনৈতিক আহ্বানের তুলনায় দৈনন্দিন প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

