হকার ও ক্ষুদ্র দোকানিদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেসের তীব্র প্রতিবাদ, বিকল্প পুনর্বাসনের দাবি

আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি: হকার ও ক্ষুদ্র দোকানিরা দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। আজ এক প্রেস বার্তায় প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হকার ও ছোট দোকানিরা শুধু নিজেদের বা পরিবারের জীবিকা নির্বাহই করেন না, বরং দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের কাছে ন্যূনতম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, অতীতে বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে সরকার ও স্বশাসিত সংস্থাগুলির তরফে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর বলপ্রয়োগ, পুলিশি আক্রমণ ও অন্যায় উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষিতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সময় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। তার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে হকার ও ছোট দোকানিদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বড়, মাঝারি ও ছোট শহর এবং বাজার এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মার্কেট স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, সেই সময় ত্রিপুরা রাজ্যে এনবিসিসি-র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আগরতলাসহ বিভিন্ন শহরে আধুনিক মার্কেট স্টল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন উপেক্ষিত হওয়ায় বহু স্টল আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে হকার ও ক্ষুদ্র দোকানিদের জীবিকার অধিকার রক্ষায় ‘ভেন্ডার লাইসেন্স’ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয় এবং বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ক্ষেত্রটি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।

২০১৮ সালের পর ত্রিপুরায় স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলি শাসক জোটের নিয়ন্ত্রণে আসার পর ব্যবসা করার ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য ও তথাকথিত কমিশন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে অটো, ই-রিকশা ও বিভিন্ন যানবাহনের পারমিট দেওয়ার ফলে রাজ্যজুড়ে বিশেষ করে আগরতলা শহরে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা যানজটমুক্ত শহর, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও সৌন্দর্যায়নের পক্ষে। তবে এর নামে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। হকার জোন তৈরি করে প্রকৃত বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
এছাড়াও রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন, অটো ও ই-রিকশা পারমিট ব্যবস্থায় সংস্কার এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। শেষে পুর নিগমের কাছে হকার ও ক্ষুদ্র দোকানিদের সমস্যা সমাধান এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস।

————

Leave a Reply